সরগরম ফুটপাত

সাধ্যের মধ্যে ঈদের আনন্দ খুঁজছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৪:০৫ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতর যতই ঘনিয়ে আসছে, শপিং মলগুলোর পাশাপাশি ততই জমজমাট হয়ে উঠছে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলো।

রংপুর নগরীর মর্ডান মোড় থেকে সিও বাজার পর্যন্ত প্রধান সড়কের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা এসব দোকানগুলোতে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। স্বল্প আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরাও সাশ্রয়ী মূল্যে পছন্দের পোশাক খুঁজে নিতে ভিড় জমাচ্ছেন এসব দোকানে। দামে কম, মানেও মন্দ নয় ফুটপাতের দোকানগুলোতে এবার শিশুদের বাহারি পোশাক, সুতি থ্রি-পিস, জিন্স প্যান্ট এবং শার্টের বিশাল কালেকশন দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো দোকানে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে আকর্ষণীয় টপস বা পাঞ্জাবি। ব্র্যান্ডের দোকানের তুলনায় দাম অনেক কম হওয়ায় ক্রেতারাও বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করছেন।

এদিকে, রংপুরের সবচেয়ে অভিজাত শপিং মল জিএল রায় রোড, জাহাজ কোম্পানি মোড়, সুপার মার্কেট, জেলা পরিষদ মার্কেট ও মতি প্লাজাতেও মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।

ভাঙা মসজিদের সামনে নাতনির জন্য জামা কিনতে আসা গৃহিণী মকছুসা বেগম বলেন, বড় বড় শোরুমে যে ড্রেস তিন হাজার টাকা, প্রায় একই রকম ডিজাইনের ড্রেস এখানে ৭০০-৮০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দরাদরি করে কিনতে পারলে ফুটপাতই সেরা।

সাধ্যের মধ্যে ঈদের আনন্দ খুঁজছে মানুষ

হাঁড়িপট্টি রোডের ব্যবসায়ী শফিকুর রহমান বলেন, দিনের বেলা কিছুটা কম থাকলেও ইফতারের পর থেকে রাত ১টা-২টা পর্যন্ত চলে বেচাবিক্রি। ফুটপাতের কেনাকাটার প্রধান মজাই হলো দর কষাকষি। বিক্রেতা এক দাম হাঁকালে ক্রেতা তার অর্ধেক দাম দিয়ে শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ চলে ‘কথার লড়াই', আর শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত দামে পণ্যটি কিনতে পেরে হাসিমুখে বাড়ি ফেরেন ক্রেতারা। পোশাকের পাশাপাশি জুতা, বেল্ট, মানিব্যাগ এবং কসমেটিকসের দোকানেও নারী-পুরুষের ভিড় লক্ষণীয়।

ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা মহসিন আলী বলেন, সারাদিন রোদে পুড়ে ব্যবসা করি ঠিকই, কিন্তু ঈদের এই কয়দিন বিক্রি ভালো হলে সব কষ্ট ভুলে যাই।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে বাহারি ডিজাইনের সালোয়ার কামিজ ও লং গাউন। অন্যদিকে, ছেলেদের পাঞ্জাবি ও ক্যাজুয়াল শার্টের দোকানেও ভিড় সবচেয়ে বেশি। বরাবরের মতোই শিশুদের পোশাকে রঙের বৈচিত্র্য বেশি, আর অভিভাবকরা সবচেয়ে বেশি ভিড় করছেন শিশুদের কর্নারগুলোতে। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে জুতা এবং প্রসাধনী কিনতে মানুষ ছুটছেন দোকানগুলোতে।

স্টেশন রোডের কাপড়ের দোকানি আরমান হোসেন বলেন, এবার সব ধরনের কাপড়েরই ভালো চাহিদা আছে। তবে ক্রেতারা মান দেখে কিনছেন।

সাধ্যের মধ্যে ঈদের আনন্দ খুঁজছে মানুষ

জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতে প্যান্ট বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, গত বছরের মতোই পোশাকের দাম রয়েছে। বেচাবিক্রি খুব একটা খারাপ নয়। দিন যত ঘনিয়ে আসছে বিক্রি ততই বাড়ছে।

তবে কেনাকাটা করতে আসা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিথীলা জানান ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, এবারে পোশাকের দাম গত বছরের চেয়ে একটু বেশি মনে হচ্ছে, তবে কালেকশন খুব সুন্দর।

এদিকে, ফুটপাতে ভিড় বাড়ায় সংলগ্ন সড়কগুলোতে কিছুটা যানজট ও হাঁটাচলায় সমস্যা হলেও ক্রেতাদের মধ্যে এর কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। উৎসবের আমেজে সব কষ্ট মেনে নিয়েই চলছে ঈদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

ঈদের কেনাকাটাকে নির্বিঘ্ন করতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পকেটমার ও ছিনতাই রোধে সাদা পোশাকে পুলিশ টহল দিচ্ছে।

জিতু কবীর/জেডআইকে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।