রংপুরে ঈদের আগে ঊর্ধ্বমুখী মাছ-মুরগির বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৭:২০ পিএম, ১৭ মার্চ ২০২৬

রংপুরের বাজারে ঈদের আগ মুহূর্তে এসে ঊর্ধ্বমুখী মাছ ও মুরগির দাম। তবে স্বস্তি মিলছে পেঁয়াজসহ কিছু সবজিতে। এছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে চাল-ডালসহ অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি বয়লার মুরগি গত সপ্তাহের তুলনায় ১৯০-২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২১০-২২০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৪০-৩৫০, পাকিস্তানি হাইব্রিড ৩১০-৩২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩০-৩৪০ টাকা, পাকিস্তানি লেয়ার ৩০০-৩১০ টাকা থেকে বেড়ে ৩২০-৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৮০-৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০০-৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে গরুর মাংস অপরিবর্তিত ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া খুচরা বাজারে পোলট্রি মুরগির ডিমের হালি গত সপ্তাহের মতোই ৩৫-৩৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে জেলা প্রশাসান ও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে নির্ধারিত দোকানে গত সপ্তাহের তুলনায় ৩২ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩ টাকা ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে।

সিটি বাজারের মুরগি বিক্রেতা শফিক বলেন, ঈদে মুরগির চাহিদা বেড়ে যায়। সেই তুলনায় সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে শসা গত সপ্তাহের তুলনায় ৩৫-৪০ টাকা থেকে কমে ২০-৩০ টাকা, লেবুর হালি আগের মতোই ২৫-৩০ টাকা, চিকন বেগুন ৩০-৪০ টাকা, গোল বেগুন ৪০-৫০ টাকা, প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ৭০-৮০ টাকা থেকে কমে ৬০-৭০ টাকা, পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকা থেকে কমে ২৫-৩০ টাকা, টমেটো গত সপ্তাহের মতোই ৩০-৪০ টাকা, গাজর ৩০-৪০ টাকা, ফুলকপি ৩৫-৪০ টাকা, বাঁধাকপির পিস ১৫-২০ টাকা, চালকুমড়া (আকারভেদে) ৪০-৪৫ টাকা, কাঁচকলার হালি ২৫-৩০ টাকা, দুধকুষি ৭০-৮০ টাকা, সজনে ১৭০-১৮০ টাকা থেকে কমে ১৫০-১৬০ টাকা, পটল ৭০-৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৭০-৮০ টাকা, শিম আগের মতোই ৩০-৩৫ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা, বরবটি ৮০-৯০ টাকা, করলা ৯০-১০০ টাকা থেকে কমে ৭০-৮০ টাকা, লাউ (আকারভেদে) ৩০-৪০ টাকা, প্রতিকেজি ধনেপাতা ৪০-৫০ টাকা টাকা, সব ধরনের শাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া গত সপ্তাহের মতোই ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে, দেশি আদা গত সপ্তাহের মতোই ১৫০-১৬০ টাকা, বাজারে আসা নতুন দেশি রসুন ১০০-১১০ টাকা, পুরাতন রসুন ১৫০-১৬০ টাকা, আমদানি করা রসুন আগের মতোই ২২০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে কার্ডিনাল আলু ১৮-২০ টাকা, সাদা আলু ১৮-২০ টাকা, বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ২০-২৫ টাকা, শিল আলু ৩৫-৪০ টাকা এবং ঝাউ আলু
৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুলাটোল আমতলা বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুল আজিজ বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তব কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম কমেছে।

খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল গত সপ্তাহের মতোই ১৯৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল গত সপ্তাহের মতোই ১৯৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৯০-২১০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) গত সপ্তাহের মতোই ১৭০-১৮০ টাকা, মাঝারি ১০০-১১০ টাকা, মুগডাল ১৫০-১৬০ টাকা, বুটের ডাল ১১০-১২০ টাকা, খোলা চিনি ১০৫-১১০ টাকা থেকে কমে ১০০-১০৫ টাকা, ছোলাবুট ৯০-১০০ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৫ টাকা, খোলা আটা ৪৫-৫০ টাকা এবং ময়দা ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের মতোই স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৬০ টাকা, বিআর২৮- ৬৫-৭০ টাকা, বিআর২৯- ৬০-৬৫ টাকা, জিরাশাইল ৭০-৭৫ টাকা, মিনিকেট ৮৫-৯০ এবং নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের মাছ কেজি প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সিটি বাজারের মাছ বিক্রেতা আলম মিয়া বলেন, রোজার শেষ মুহূর্তে এসে মাছের গাড়ি ঠিকমতো আসছে না। সরবরাহ কমে গেছে। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী কয়েকদিন অধিকাংশ সবজি দোকানপাট বন্ধ থাকে। এ কারণে ঈদের আগে চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে দাম বাড়তে থাকে।

জিতু কবীর/এমএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।