হবিগঞ্জ
দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন থেকে বালতি-পাতিল নিয়ে তেল লুটের হিড়িক
হবিগঞ্জের মাধবপুরে মনতলা এলাকায় জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার উদ্ধারকাজ এখনও শেষ হয়নি। তবে উদ্ধার তৎপরতা জোরদারভাবে চলছে। দুর্ঘটনার কারণে বুধবার (১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টা থেকে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, জ্বালানি তেলবাহী ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার পর তেল সংগ্রহের জন্য স্থানীয়রা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। দুর্ঘটনার পর পাঁচটি অয়েল ট্যাংকার লাইনচ্যুত হয়ে তেল ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের নিচু জমি ও খালে। খবর পেয়ে স্থানীয় নারী-পুরুষ ও শিশুরা বালতি, পাতিল, জগ এবং বড় গামলা নিয়ে তেল সংগ্রহে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
বিজিবির হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর সৈয়দ ইশতিয়াক মুর্শেদ জানান, বিজিবি এখন পর্যন্ত ১ হাজার লিটার ডিজেল সংগ্রহ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে সাধারণ মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ম্যানেজার এ বি এম কামরুজ্জামান জানান, জ্বালানি তেল সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকায় এ বিষয়ে স্থানীয়দের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তারপরও কেউ কেউ হয়ত সংগ্রহ করছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ যেন না করতে পারে সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তেল সংগ্রহকারী আলীম উদ্দিন বলেন, আমি ৫০ লিটারের মতো তেল সংগ্রহ করেছি। ফোম দিয়ে পানি থেকে এগুলো সংগ্রহ করছি। আরও কিছু তেল সংগ্রহ করতে পারবো বলে আশা করছি।
রহিমা খাতুন বলেন, পড়ে যাওয়া তেল সংগ্রহ না করলে পানিতে মিশে গিয়ে পানি নষ্ট হতো। তাই আমরা তেল সংগ্রহ করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি তেল ডিজেলবাহী একটি ট্যাংকার ১৬টি বগি নিয়ে সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। পথে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা নামক স্থানে এলে তেলবাহী ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে পাঁচটি অয়েল ট্যাংকারের বগি রেল লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। এসময় একটি ট্যাংকার রেল সেতু থেকে ছিটকে খালের পানিতে পড়ে যায়। এ সময় প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইনও দুমড়েমুচড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার কারণে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার আজমপুর স্টেশনে অবস্থান করছে। এসব ট্রেনের শত শত যাত্রী ভোগান্তির শিকার হন।
সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/কেএইচকে/এএসএম