নাটোরে খরচের টাকাও উঠছে না পেঁয়াজ চাষিদের
নাটোরে ভরা মৌসুমেও পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচও তুলতে না পারায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। বাজারে দাম কমে যাওয়ার পেছনে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
পেঁয়াজ চাষিরা জানান, এ বছর পেঁয়াজ তোলার কিছুদিন আগে বৃষ্টির কারণে এ অঞ্চলে পেঁয়াজের ফলন কম হয়েছে। সার, বীজ, কীটনাশক এবং শ্রমিকের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ পেড়েছে বেশি। বিঘা প্রতি লাইলা বা কন্দ জাতের পেঁয়াজ চাষে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা উৎপাদন খরচ পড়েছে।
অপরদিকে দেশি জাতের বিভিন্ন ধরনের পেঁয়াজ চাষে বিঘা প্রতি খরচ পড়েছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। সে অনুপাতে বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী উৎপাদন খরচ উঠছে না কৃষকদের।
নাটোরের সব থেকে বড় পেঁয়াজের হাট নলডাঙ্গা হাট। সেখানে ঘুরে দেখা যায়, নানা ধরনের পেঁয়াজ সাইজ ভেদে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
হাটে নলডাঙ্গার মাধবপুর গ্রামের কৃষক মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, আমরা ৬০০-৭০০ টাকা মণ পেঁয়াজ বিক্রি করছি। এতে খরচের অর্ধেক দামও পাচ্ছি না।
বিমল কুমার নামে একজন পেঁয়াজ বিক্রেতা বলেন, ১ বিঘা জমি ৪০ হাজার টাকা দিয়ে বর্গা নিয়েছি। ৩ হাজার টাকা মণ বীজ কিনেছি। এছাড়াও সার, কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বিঘা প্রতি খরচ পড়েছে ৫০ হাজার টাকার বেশি। ফলন পাচ্ছি ৫০ থেকে ৬০ মণ হারে। পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে আমাদের খরচের টাকাই উঠছে না।
নলডাঙ্গা হাটের পেঁয়াজ আড়তদার রানা আহমেদ এবং জহুরুল ইসলাম জানান, শুধু নলডাঙ্গা উপজেলাতেই ৫৪ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। কিন্তু অন্যান্য জেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য স্টোরেজ ব্যবস্থা থাকলেও নাটোর জেলায় নেই। দেশীয় পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে গেলেও বেশ কিছু পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে পেঁয়াজের দাম পরে বাড়লেও প্রকৃত চাষিরা সেই দাম পান না। ফলে তাদের লোকসান গুণতে হয়।
পেঁয়াজের দাম কমার বিষয়ে এই দুই ব্যবসায়ী বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজের মৌসুমে আমদানি করা এবং দেশীয় পেঁয়াজ একসঙ্গে বাজারে আসায় পেঁয়াজের দাম কমে গেছে।
নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সবুজ আলী বলেন, কৃষকরা খরচের তুলনায় দাম পাচ্ছেন কম। কৃষকরা যাতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারেন জন্য কৃষি বিভাগ পরামর্শ প্রদান ও পচন রোধে কিছু ফ্যান কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান জানান, জেলায় চলতি মৌসুমে ৭৩০৪ হেক্টর জমিতে কন্দ ও চারা জাতীয় পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫০৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। তবে পেঁয়াজ তোলার আগে বৃষ্টিপাতজনিত কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে।
রেজাউল করিম রেজা/এফএ/এমএস