পটুয়াখালী
বজ্রপাতে অর্ধশতাধিক গবাদিপশুর মৃত্যু
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরসহ গোটা উপকূলীয় এলাকায় দুদিন প্রবল বজ্রবৃষ্টি হয়েছে। বজ্রপাতে এ অঞ্চলের অর্ধশতাধিক গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে ৩০ এর অধিক কৃষক সর্বস্বান্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আচমকা শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে তীব্র বজ্রবৃষ্টিতে মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এতে বিকেল থেকে একের পর এক গবাদিপশু মারা যায়।
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের আজিমদ্দিন গ্রামের প্রান্তিক কৃষক রুহুল আমিন খান জানান, দুপুরে মাঠে রাখা গরু বজ্রপাতে মুহূর্তেই মৃত্যু হয়। এতে তার প্রায় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তারিকাটা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম হাওলাদার, বালিয়াতলী গ্রামের হাবিবুল্লাহ, রিফিউজিপাড়ার শাহিদা বেগম, মধুখালী গ্রামের আনেচ খান, এনায়েত তালুকদার, কমরপুর গ্রামের নূর হোসেন জানান, স্বাভাবিকভাবেই গরুগুলো মাঠে বেঁধে রাখা ছিল। আচমকা ঝড়োবৃষ্টির সঙ্গে বিরামহীন বজ্রপাতে গরুগুলো মারা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, বজ্রপাতে অন্তত ৬০ লাখ টাকার গবাদিপশুর প্রাণহানি ঘটেছে।
কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ জানান, মঙ্গলবার বজ্রপাতে খামারিসহ ২৩ জন কৃষকের তালিকা পেয়েছেন। তাতে মোট ২৯টি গরু মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছেন। বুধবার বজ্রপাতে কোন গরু মারা যাওয়ার খবর এখন পর্যন্ত মেলেনি। তবে অনেক কৃষক তার গরু মারা যাওয়ার খবর জানায়নি। মৃত গরুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে সরকারিভাবে নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা ও ঢেউটিন দেওয়া হবে। গবাদিপশু মারা যাওয়া কৃষকের তালিকা সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
আসাদুজ্জামান মিরাজ/এনএইচআর/এএসএম