শ্রীমঙ্গল
জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে সড়ক, বিদ্যালয়-বাড়িঘরে ঢুকেছে পানি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে করে অনেক সড়ক তলিয়ে বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। ফলে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের পশ্চিম ভাড়াউড়া, পূর্ব শ্রীমঙ্গল, সবুজবাগ, লালবাগ, রুপসর্পুএবং আশিদ্রোন ইউনিয়নের রামনগর, গাজিপুর, মুসলিমবাগ এলাকাসহ নিম্নাঞ্চলের বেশকিছু গ্রাম তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে পশ্চিম ভাড়াউড়া এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সড়ক এবং গাজিপুর সড়ক ও কবরস্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া শহরতলীর বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চলে পানি জমে আছে। কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। দুইটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক মানুষের বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। নিচু এলাকার অনেক দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারী বৃষ্টি হলেই সদর ইউনিয়ন ও আশিদ্রোন ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক, প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা দিন দিন ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। গাজিপুর ও ভাড়াউড়া সড়কে প্রায় হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় রিকশা ও সিএনজি চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা।
মুসলিমবাগ এলাকার বাসিন্দা কালাম আহমদ বলেন, ভারী বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন এলাকা ডুবে যায়। বিশেষ করে গাজিপুর, রামনগর সড়ক ও কবরস্থান পানিতে তলিয়ে যায়। শুক্রবার বৃষ্টিতে অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষেরা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা রুবেল আহমদ বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওর্য়াডের পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রাম। শুক্রবারের বৃষ্টিতেও পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে চলমান পরীক্ষাসহ বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার এলাকাবাসী।
বৃষ্টিপাতের বিষয়ে শ্রীমঙ্গলের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩০ ঘণ্টায় ১৬০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া গত এপ্রিল মাসে মোট ৪৮৩ মিমি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে ২৫ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৩১৫ মি.মি. রেকর্ড। আগামী কয়েক দিন এ অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড় বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। যেসব জলাবদ্ধতার স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা যায় আমাদের পক্ষ থেকে এইসব স্থানে সমাধান করা হচ্ছে। আর যে সব স্থানের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া দরকার এসব স্থান চিহ্নিত করে আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করেছি। যেন দ্রুত সময়ে সমস্যাগুলো সমাধান করা যায়।
এম ইসলাম/এনএইচআর/এমএস