লালমনিরহাটের বিলুপ্ত ৫৯ ছিটমহলে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়ন শুরু
লালমনিরহাটের ৫৯টি বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারে তথ্য সংগ্রহ শেষে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। রোববার বিকেলে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নে বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দাদের ছবি তুলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিম ও পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফতাব উজ্জামান। বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দাদের এ ছবি তোলা কার্যক্রম আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৫৯টি বিলুপ্ত ছিটমহল রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় দুইটি, হাতীবান্ধা উপজেলায় দুইটি ও পাটগ্রাম উপজেলায় ৫৫টি। এর মধ্যে পাটগ্রাম উপজেলার ভেতরে থাকা ভারতীয় ১৯টি ছিটমহলে কোনো জনবসতি নেই। সবকটি ছিটমহলে ১০ হাজার ৩৭৬ জন অধিবাসী রয়েছেন। এর মধ্যে শুধু পাটগ্রাম উপজেলায় রয়েছে আট হাজার ৪৫২ জন বাসিন্দা।
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১০ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত টানা সাতদিন ছিটমহলগুলোতে ভোটার তালিকা তৈরির জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসময় তথ্য সংগ্রহকারীরা বিলুপ্ত ছিটমহলের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিলুপ্ত ছিটবাসীদের মধ্যে ১৮ বছর বয়সের ঊর্দ্ধে নারী-পুরুষের ভোটার তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্ত করেন। এরপর রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছবি তোলা ও জাতীয় পরিচয়পত্রে কাজ শুরু হয়।
এতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ছবি তোলা ও রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরপর আগামী ১ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। খসড়া ভোটার তালিকা সংশোধন করা হবে ২৮ জুলাই এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর।
ওই দিন (৪ সেপ্টেম্বর) বিলুপ্ত ছিটমহলের নাগরিকদের হাতে তাদের প্রয়োজনীয় এই পরিচয়পত্রটি তুলে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে পরিচয়পত্র না পেলেও তারা ভোট দিতে পাবেন বলে স্থানীয় নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।
রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপার ভাইজাররা ১০ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত প্রত্যেক বিলুপ্ত ছিটমহলে বসবাসরত নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহে কাজ শেষ করেছে।
রবিউল হাসান/একে