কালভার্ট বন্ধ করে বিএনপি নেতার বাড়ি নির্মাণ, হুমকিতে ৫০০ বিঘা জমি
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের মধ্য কাগারচর বালুয়াকান্দা এলাকায় সরকারি ড্রেনেজ ব্যবস্থার কালভার্ট বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে প্রায় ৫০০ বিঘা ফসলি জমির বোরো ধান ও বিভিন্ন রবি শস্য তলিয়ে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা বলে দাবি স্থানীয় কৃষকদের।
অভিযুক্ত আব্দুল খালেক ওরফে আলতু মিয়া বুরুদিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি। কাগারচর গ্রামের বাসিন্দা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোমরসমান পানিতে নেমে কৃষকরা ধান কাটার চেষ্টা করছেন। অনেক জমির ধান সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। কোথাও ধান কাটলেও খড় শুকানোর জায়গা নেই। কৃষকদের চোখেমুখে হতাশা আর অনিশ্চয়তার ছাপ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মধ্য কাগারচর বালুয়াকান্দা বাইতের বন এলাকার মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি পুরোনো সরকারি কালভার্ট ছিল। কিন্তু আব্দুল খালেক ওরফে আলতু মিয়া কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শতাধিক কৃষক পরিবারের কয়েক কোটি টাকার ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কৃষক আফল বলেন, আমাদের এলাকায় আগে সরকারি খাল ও ব্রিজ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি চলাচল করত। কিন্তু আলতু মিয়া সেখানে জায়গা কিনে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণ করায় পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমি পানির নিচে। যেখানে আগে বছরে তিনটি ফসল হতো, সেখানে এখন ধান পচে নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসন কয়েকবার এলাকা পরিদর্শন করলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আলতু মিয়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব করছেন। জলাবদ্ধতার কারণে তার নিজের জমিও চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

আরেক কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমার জমি পানিতে ডুবে গেছে। এলাকার পুকুরের প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। আগে যেদিক দিয়ে পানি নামত, সেখানে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চাই।
কিশোরগঞ্জ জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজান বলেন, গত দুই বছর ধরে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা চলছে। ড্রেন ভরাট করে দেওয়াই এর মূল কারণ। এতে প্রায় হাজার মণ ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা মো. আব্দুল খালেক ওরফে আলতু মিয়া বলেন, অনেকেই মূল সড়কের কালভার্ট বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। আমি আমার নিজস্ব জায়গায় ঘর তুলছি এবং বিষয়টি এলাকাবাসীকে আগেই জানিয়েছি। চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। আমি পানি চলাচলের পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে চাই না। বিকল্প কোনো স্থান দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে রাজি আছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলম বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়সহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগেও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। উপজেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আগামীকালের মধ্যে পানি অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও বলা হয়েছে।
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এসকে রাসেল/এফএ/জেআইএম