দালালের ফাঁদে পড়ে নার্সের বাসায় ডিএনসি, মারা গেলেন গৃহবধূ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শেরপুর
প্রকাশিত: ১০:২১ পিএম, ০৮ মে ২০২৬
শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল/ছবি-জাগো নিউজ

শেরপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক গৃহবধূকে ভুল বুঝিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে নার্সের বাসায় গোপনে ডিএনসি (জরায়ুতে এক ধরনের অস্ত্রোপচার) করানোর অভিযোগ উঠেছে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। এর পরপরই মারা যান ওই গৃহবধূ।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম লাভনী আক্তার (২৬)। তিনি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার খড়খড়িয়া তালুকদার বাড়ি গুণাপাড়া এলাকার সাইদুর রহমানের স্ত্রী। বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে শহরের কসবা কাঠঘর এলাকায় বসবাস করতেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, অসুস্থ অবস্থায় লাভনীকে শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে নার্স চম্পা ও দালাল মহসিনের প্ররোচনায় হাসপাতালের বিপরীতে একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডিএনসি করানোর পর তার অবস্থার অবনতি ঘটে।

লাভনীর স্বামী শহরের নয়ানী বাজারের ফল ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘মহসিন নামের একজন বলল, ওখানে সুবিধা আছে। রক্ত ছাড়াও চম্পা নামের নার্স ডিএনসি করতে পারে। রাতে তাকে ফোন দিলে সে বলে চম্পা নার্স আছে, উনার মাধ্যমে করলে ভালো হবে। পরে সকালবেলা হাসপাতাল থেকে নিয়ে গিয়ে বাসায় ডিএনসি করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডিএনসি করার পর আমি জিজ্ঞেস করি রক্ত লাগবে কি-না। তিনি (নার্স) বলেন, রক্ত লাগে না। পরে কিছু ওষুধ লিখে দেন এবং ছয় হাজার টাকা নেন। মহসিন বলেছিল, উনি বেশি টাকা নেন না। আমি কিছু বলিনি।’

সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘একটা ওষুধ পাইনি। ফোন দিলে বলে, অন্য গ্রুপের নিলেও সমস্যা নেই। কিন্তু রক্ত অনেক কমে গিয়েছিল। স্যালাইনও ঠিকভাবে দিতে পারিনি। পরে বাসায় নিয়ে যাই। বিকেলে অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে আনার পথে আমার স্ত্রী মারা যায়।’

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. নাবিদ আনজুম সিয়াম বলেন, ‘আমরা যখন রোগীটিকে পাই, তখন তার শরীরে জীবনের কোনো আলামত ছিল না। সম্ভবত হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, স্বজনদের কাছ থেকে তারা জেনেছেন, আগের রাতে রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সকালে গাইনি বিশেষজ্ঞ দেখানোর আগেই তারা রোগীকে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালেরই একজন নার্সের বাসায় নিয়ে গিয়ে ডিএনসি করা হয়। এরপর রোগীকে তার বাসায় নেওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে পুনরায় হাসপাতালে আনা হয়।

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাহেরাতুল আশরাফি বলেন, ‘ওই রোগীর ডিএনসি বাইরে হয়েছে। এটার সঙ্গে হাসপাতালের কোনো সম্পর্ক নেই। রোগীকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে।’

নার্স চম্পার সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নার্স জড়িত কি-না, সেটি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘একজন রোগীকে নার্স চম্পার বাসায় নিয়ে ডিএনসি করানো হয় বলে আমরা জেনেছি। এরপর রোগীর অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মো. নাঈম ইসলাম/এসআর

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।