ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজ ২ : একজন কারাগারে অন্যজন জগন্নাথে


প্রকাশিত: ০১:০৯ পিএম, ২৪ জুলাই ২০১৬

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মিডিয়া উইং থেকে ২৬১ জন নিখোঁজ ব্যক্তির একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকার সঙ্গে সংযুক্ত বার্তায় বলা হয় যে, দেশব্যাপী অনুসন্ধান চালিয়ে সাম্প্রতিক কালের নিখোঁজ ব্যক্তিদের এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

এসব ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া গেলে নিকটস্থ র‌্যাব ক্যাম্পে জানানোরও অনুরোধ করা হয়। তবে তালিকায় থাকা সবাই জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় সন্দেহভাজন কিনা এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

নিখোঁজদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার মোতালেবের ছেলে নুরুজ্জামান আরিফ (২৩) ও খানকাহ শরিফ এলাকার কাইয়ূম হোসেনের ছেলে কামরুজ্জামান টুটুলের নাম রয়েছে।

মুন্সিরহাট এলাকার নুরুজ্জামান আরিফ বছর খানের আগে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে আটক।

নুরুজ্জামান আরিফের বাবা মোতালেব জানান, আরিফ ঠাকুরগাঁও শহরেই বড় হয়েছে। সে ইসলাম নগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে সদর উপজেলার শিবগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। পরে তাকে উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকার একটি কলেজে ভর্তি করে দেওয়া হয়। পরে জানতে পারি সে নাকি জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পরিবার থেকে একাধিকবার তাকে রাজনীতি না করার জন্য বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু সে আমাদের কথা মানেনি। বছর খানেক আগে আরিফ জঙ্গি সন্দেহে ঢাকায় র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছে। সে বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে। তার কারণে সমাজে পরিবারের লোকজন মুখ দেখাতে লজ্জা পায়।

অপরদিকে নিখোঁজ কামরুজ্জামান টুটুলের বাসা ঠাকুরগাঁও শহরের খানকাহ্ শরিফ এলাকায়। বাবা কাইয়ূম ঠাকুরগাঁও শীবগঞ্জ বিমানবন্দরের (পরিত্যক্ত) অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। সেও ইসলাম নগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। পরবর্তীতে এইচএসসি পাস করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ঢাকায় থাকাকালীন ঠাকুরগাঁওয়ের ছেলে আটক জঙ্গি নুরুজ্জামানের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা এক সঙ্গেই মেসে থাকা শুরু করে। একপর্যায়ে নুরুজ্জামান টুটুলও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

বছর খানেক আগে টুটুলকে সাদা পোশাকে কয়েকজন তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঠাকুরগাঁও সফরে এলে টুটুলের বাবা কাইয়ূম ছেলে নিখোঁজের কথা জানান। পরবর্তীতে টুটুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। টুটুল মুক্তি পাওয়ার পর ঠাকুরগাঁওয়ে এসে তার পরিবারের লোকজনকে আটকের কথা জানান।

টুটুলের বাবা কাইয়ূম জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে থাকাকালীন টুটুল কোনো রাজনীতির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। ঢাকায় বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে সে খারাপ পথে পা বাড়িয়েছে। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য নানা কৌশল করেছি। সে বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়রত। সে এখন কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত নেই বলে তার বাবা দাবি করেছেন।

টুটুলের প্রতিবেশী মফিজ উদ্দিন জানান, টুটুল ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় খুবই ভালো ছিল। তাই তার বাবা তাকে উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেয়। আমরা শুনেছি সে নাকি বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে জঙ্গিদের সঙ্গে মিলেছে। দোয়া করি সে ভালো পথে ফিরে আসুক।

ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, র‌্যাবের তালিকা অনুযায়ী ঠাকুরগাঁওয়ের নিখোঁজ দুজনের নাম প্রকাশিত হয়েছে। সেই তথ্য অনুযায়ী ওই দুজনের বিষয়ে আমরাও অনুসন্ধান চালাচ্ছি।

রিপন/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।