সন্তানদের লেখাপড়া চালাতে হিমশিম খাচ্ছে আতিকের স্ত্রী
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত চাঁদপুর-মতলব উত্তরের আতিক উল্ল্যাহ সরকারের পরিবার প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেয়ে এখন স্বাচ্ছন্দে জীবন-যাপন করছে। তবে ৪ সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালাতে অনেকটা হিমশিম খাচ্ছে তার পরিবার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো কিছু সহায়তা করলে সন্তানদের সুন্দরভাবে লেখাপড়া করাতে পারবে বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন আতিক উল্ল্যাহ সরকারের স্ত্রী লাইলি বেগম। একইভাবে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন নিহত আতিক উল্ল্যাহ স্বজনরা। স্বামী আর পিতৃহত্যার বিচারের প্রতীক্ষায় রয়েছেন আতিকের স্ত্রী ও চার সন্তান।
মতলব উত্তর উপজেলার পাঁচআনী গ্রামের আতিক উল্ল্যাহ সরকার (৪৬)। তিন ছেলে আর এক মেয়েকে বড় অসহায় করে ফেলে গেছেন একমাত্র উপার্জনক্ষম আতিক। ৫ ভাইবোনের মধ্যে আতিক ছিল বড়। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব নিয়েছিল আতিক। তিনি ঢালাই শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট কাজ শেষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে যান। ওই সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আতিক নিহত হন। আতিকের মৃত্যুর পর পরই ভাইয়েরা আলাদা হয়ে যান।
আতিকউল্ল্যাহ সরকারের স্ত্রী লাইলি বেগম জাগো নিউজকে জানান, সংসারে তার ৪ সন্তান। বড় মেয়ে তানিয়া এ বছর এইচএসসি পাস করেছে। বড় ছেলে মিথুন কলেজে পড়ে। মেজ ছেলে মিন্টু ও সাকিব অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। আতিক নিহত হওয়ার পর ৯ বছর কোনো খোঁজ নেয়নি কেউ।
অবশেষে ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রথমে এক লাখ ও পরে দশ লাখ টাকা পেয়েছে। এ টাকা ব্যাংকে রেখে তা থেকে প্রতি মাসে পাওয়া যায় ১০ হাজার ৭০০ টাকা। এ দিয়ে এখন জীবিকা নির্বাহ করেও চার সন্তানের লেখাপড়া চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে লেখাপড়ার খরচ হিসেবে ২ হাজার টাকা দেয়া হচ্ছে।
এসএস/পিআর