সেতু আছে, সড়ক নেই!
সেতু আছে, সড়ক নেই ! কয়েক’শ মিটারের মধ্যে নেই কোনো জনবসতিও। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের লেদি খালের ওপর এমনই একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর পূর্ব পাশে কৃষিজমি।
এলাকাবাসী জানায়, যে স্থানটিতে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে, রাস্তা না থাকায় সেখানকার জনসাধারণ সেতু নির্মাণের পরও উপকার পাচ্ছে না। এখানকার ফসলি জমিতে কৃষকরা শুধু চাষাবাদ করে। খালের ওই পাড়ে মানুষের যাতায়াতও কম।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতটিু নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের নাম গাজী বাড়ির নিকট লেদি খালের উপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প। ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের সেতু কালর্ভাট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।
সেতুটি নির্মাণে ঠিকাদার ছিল ইমন ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। যদিও কাজটি করেছেন মশিউর রহমান মিটু নামে আরেক ঠিকাদার।
সেতু সম্পর্কে জানতে নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে জানান, ইউনিয়নের গাজী বাড়ির নিকট লেদি খাল নামে কোনো খাল সম্পর্কে আমার জানা নেই। এমনকি ওই সেতু সম্পর্কেও আমার কোনো ধারণা নেই। আমি জেনে পরে জানাবো।
এ সম্পর্কে গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খাজা আহম্মেদ ভূঁইয়া বলেন, ইউনিয়নে আটটি খাল ও আটটি গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি এলাকা রয়েছে, যেখানে সেতু নির্মাণ করা জরুরি। কিন্তু রাস্তা ও জনগণশূন্য এলাকায় সরকারের ৩০/৩১ লাখ টাকা নষ্ট করে সেতু নির্মাণের কোনো মানে হয় না। শুধুমাত্র ব্যক্তিবিশেষের মোটা অঙ্কের অর্থের লোভে এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অহিদুর রহমান বলেন, রাস্তার স্ট্রাকচার করা আছে। এ মুহূর্তে মাটির স্বল্পতার কারণে রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।
উপজেলা চেয়াম্যান আবু সাহেদ সরকার জানান, এখানে একটি সেতুর প্রয়োজন আছে। দ্রুত সেতুর দুই পাশে রাস্তা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সেতুর কাজের ঠিকাদার মিটু জানান, মূলত খালের পূর্ব পাশে বিলের মধ্যে সরকারের বেশ কিছু খাসজমি রয়েছে, যা রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যই এই সেতু নির্মাণের মূল লক্ষ্য বলে সূত্রমতে তিনি জানতে পেরেছেন।
প্রবীর চক্রবর্তী/এআরএ/এবিএস