ভাবির প্রতারণায় ক্ষুব্ধ হয়েই মাধবপুরে ট্রিপল মার্ডার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৩:০১ এএম, ২৪ আগস্ট ২০১৬

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ভাবির দ্বারা দফায় দফায় প্রতারিত আর উপহাসের শিকার হয়েই শাহ আলম তিনজনকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে বের হয়ে এসেছে। বিষয়টি জানিয়েছেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র।

পুলিশ জানায়, শাহ আলম প্রায় ১১ বছর কুয়েত এবং গ্রিসে ছিল। সেখান থেকে সে তার ভাবি জাহানারা বেগমের কাছে উপার্জিত টাকা পাঠাতো। কিন্তু দেশে ফেরার পর সে তার টাকা ফেরত পায়নি। এছাড়া ভাবির দ্বারা সে বিভিন্নভাবে প্রতারিত হয়ে ২ বছর বয়সী সন্তানসহ আর্থিক কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করতো।

সম্প্রতি জমিজমা বিক্রি করে সে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ফ্লাইট জটিলতায় তার যাওয়া হয়নি। শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে ফেলে সে। এ নিয়ে প্রায়ই ভাবি জাহানারা তাকে নানাভাবে উপহাস করতেন। মঙ্গলবার রাতে উপহাসের এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ আলম হত্যার উদ্দেশ্যে ভাবি জাহানারার উপর আক্রমণ করে। মূলত ভাবীকে হত্যার জন্যই সে আক্রমণ করেছিল।

এ সময় তার চিৎকারে মেয়ে শারমীন, ছেলে সুজাত ও প্রতিবেশী শিমুল মিয়া এগিয়ে আসলে তাদের উপরও হামলা চালায় সে। ঘটনাস্থলেই মারা যান জাহানারা। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে শাহ আলমকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ জাহানারার মরদেহ উদ্ধার ও শাহ আলমকে আটক করে মাধবপুর থানায় নিয়ে আসে।

এদিকে, গুরুতর আহত শিমুল মিয়া মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে এবং আহত শারমীন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুজাতকে ঢাকা পাঠানো হয়। নিহত ৩ জনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রাতে পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শাহ আলম হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেছে। সে মূলত ভাবিকেই হত্যা করতে চেয়েছিল। কারণ ভাবি তার সঙ্গে প্রতারণাও করেছেন পাশাপাশি উপহাসও করতেন। কিন্তু ঘটনার সময় অন্যরা ছুটে আসায় তারাও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।

তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত এবং সাক্ষ্য প্রমাণ যা পাওয়া গেছে তাতে শাহ আলম ছাড়া অন্য কেউ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহত শিমুল মিয়ার ভাই মুখলেছুর রহমান জানান, আমার ভাইয়ের কোনো দোষ ছিল না। তাকে কেন হত্যা করা হলো। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

এখলাছুর রহমান খোকন/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।