সংস্কারের দুই মাসেই ভেঙে পড়লো সেতু
পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের পাড়েরহাট-বাদুরা গ্রামে মৎস্য বন্দরে যাওয়ার সেতুটি সংস্কারের দুই মাসের মাথায় ভেঙে পড়েছে।
বুধবার সকালে একটি ট্রলারের ধাক্কায় সেতুটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ট্রলারের মাঝি কামাল হোসেন মাতুব্বর গুরুতর আহত হয়েছেন।
পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা আকন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার সকালে পাড়েরহাট মৎস্য আড়ৎ থেকে এফবি মায়ের দোয়া নামে একটি ট্রলারটি মিল থেকে বরফ নেয়ার জন্য বন্দরের খালের ওপরের ব্রিজটি অতিক্রম করছিল। এ সময় ধাক্কা লেগে সেতুটি বিধ্বস্ত হয়ে ট্রলারের ওপর পড়ে।
এতে ট্রলারের মাঝি কামাল হোসেন মাতুব্বরের (৪০) মাথা থেতলে যায়। এ সময় ট্রলারটি ডুবে যায়। কামাল ভান্ডারিয়া উপজেলার দারুলহুদা গ্রামের চাঁনমিয়ার ছেলে। তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ট্রলারের মালিক বাহাদুর জানিয়েছেন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লোহার খুঁটির উপর সিমেন্ট খোয়ার ঢালাইয়ে সেতুটি নির্মিত। এটি মাঝ থেকে পূর্ব উত্তর দিকে হেলে পড়েছে।
পিরোজপুর এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুটির দৈর্ঘ্য ২শ’ ফুট এবং প্রস্থ ৮ ফুট। প্রায় ৩৫ বছর আগে পিরোজপুর জেলা পরিষদ এটি নির্মাণ করে। এখন এটি দেখভালের দ্বায়িত্ব পিরোজপুর এলজিইডির।
স্থানীয়রা জানায়, মাত্র ২ মাস আগে ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে লোহার বিমের উপর স্লাব বসিয়ে সেতুটি সংস্কার করা হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল বাসার মন্টু খান জানান, সমুদ্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০টি ট্রলারে মাছ নিয়ে এ মৎস্যবন্দরে আসে মৎসজীবীরা। পরদিন সকালে এ ট্রলারগুলোর মাছ বিক্রির পর ঠেলা গাড়ি বা ভ্যানে করে এ সেতু দিয়ে পাড়েরহাট বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে গাড়িতে করে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
প্রতিদিন এ সেতু দিয়ে মৎস্য পরিবহনসহ কয়েক হাজার লোক চলাচল করে। সেতুর বেহালের কথা পিরোজপুর এলজিইডির কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি।
হাসান মামুন/এসএস/পিআর