মেয়ে দরিদ্র হওয়ায় বিয়ে মানছে না ছেলের বাবা


প্রকাশিত: ০৪:০০ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬

স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি ও মর্যাদা পাওয়ার দাবিতে যশোরের মণিরামপুরে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মুসলিমা খাতুন। সেই সঙ্গে মুসলিমার পরিবার দরিদ্র হওয়ায় শ্বশুর তাদের বিয়ে মেনে নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।  

গত দু’দিন ধরে তিনি স্বামী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাইসুল ইসলামের বাড়ি মণিরামপুরের চাকলা গ্রামে অবস্থান করছেন। মুসলিমা খাতুন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার খোর্দ্দ গ্রামের ইয়ার আলীর মেয়ে এবং রাইসুল মণিরামপুরের চাকলা গ্রামের আইয়ুব বিশ্বাসের ছেলে। স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর এই অবস্থান নিয়ে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।  

স্থানীয়রা জানায়, চাকলা ও খোর্দ্দ গ্রাম দু’টি দুই জেলার হলেও পাশাপাশি অবস্থান। দুই গ্রামের দূরত্ব এক কিলোমিটার মাত্র। রাইসুল ও মুসলিমা দুই জেলার বাসিন্দা হলেও তারা একই কলেজে লেখাপড়া করেছে। এরই সূত্র ধরে তাদের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরই মধ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য রাইসুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং মুসলিমা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

মুসলিমা দাবি করেন, ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি যশোরে ইসলামি শরিয়া অনুযায়ী এক লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন তারা। এরপর দু’জন প্রায় তিন বছর ধরে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছেন।

সম্প্রতি তাদের বিয়ের বিষয়টি রাইসুলের বাবা জানতে পারেন। কিন্তু মুসলিমার পরিবার দরিদ্র হওয়ায় রাইসুলের বাবা আইয়ুব বিশ্বাস ছেলের বিয়ে মেনে না নিয়ে উল্টো ছেলের বউকে ছেড়ে দিতে ছেলের উপর চাপ প্রয়োগ করছেন।

মুসলিমা দাবি করেন, সর্বশেষ  গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে রাইসুলের সঙ্গে তার কথা হয়। এ সময় ঈদে স্বামীর বাড়িতে আসতে চাইলে রাইসুল ফোন কেটে দেয়। এরপর থেকে রাইসুল মুসলিমাকে এড়িয়ে চলতে থাকে। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে বৃহস্পতিবার স্বামী রাইসুলের বাড়িতে অবস্থান নেন মুসলিমা।

JOSHO

এদিকে মুসলিমা স্বামীর বাড়িতে আসার পর তাকে তাড়িয়ে দিতে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে রাইসুল গা ঢাকা দেয়। সেই সঙ্গে তার মা-বাবাও বাড়ি থেকে চলে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, মুসলিমাকে ছেলের বউ হিসেবে মেনে নেয়া উচিত ওই পরিবারের। কারণ তারা অনেক আগেই বিয়ে করেছে।

এ বিষয়ে রাইসুলের চাচা শাহাদাৎ বিশ্বাস জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য আলোচনা চলছে।  

শুক্রবার সন্ধ্যায় মুসলিমা জানান, তার পরিবারের সদস্যরা রাইসুলের বাড়িতে এসেছেন। দু’পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। রাইসুল ফিরলে স্ত্রীর স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। সে পর্যন্ত তিনি রাইসুলের বাড়িতে থাকবেন।

খোর্দ্দ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ শোয়েব আলী বলেন, দু’পক্ষকে এক জায়গায় বসে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য বলা হয়েছে।  
 
মিলন রহমান/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।