টিকিট সঙ্কটে শত শত যাত্রী
টিকিট না পেয়ে শতশত পাসপোর্টযাত্রী আটকা পড়েছে বেনাপোলে। বেনাপোল থেকে ঢাকা, চট্রগ্রামের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় ভারত থেকে দেশে আসা যাত্রীসহ ঈদের পর ঢাকামূখী মানুষ পড়েছে বেকায়দায়। এছাড়া নাড়ির টানে যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে ঈদ করতে এসে আটকা পড়েছেন শত শত কর্মজীবী মানুষও।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল মাহমুদ জানান, আগে গড়ে যেখানে দুই থেকে আড়াই হাজারের মতো যাত্রী যাতায়াত করতো এখন তা বেড়ে ৬/৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তবে এখন ভারত থেকে দেশে ফেরা যাত্রীর সংখ্যাই বেশি।
বেনাপোলের বিভিন্ন কাউন্টার ঘুরে দেখা যায়, ঢাকামুখী শতশত যাত্রী বাসের টিকিট না পেয়ে বিকল্প উপায় খুঁজছে। কেউ মাইক্রোবাস, কেউবা প্রাইভেট কার প্রভৃতি নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার চেষ্টা করছে।
বেনাপোলের ‘হানিফ এন্টারপ্রাইজ’ এর ম্যানেজার নজরুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেক যাত্রী বাসের টিকিট না পেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার রিজার্ভ করে ঢাকা যাচ্ছেন।
বেনাপোলে ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে ভারত থেকে আসা পাসপোর্টযাত্রী রেজাউল ইসলাম বলেন, তারা সকালে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন কিন্তু টিকিট না পাওয়ার কারণে বাড়ি ফিরতে পারছেন না।
রেজাউল ইসলামের মত ভারত থেকে ফিরে বেকায়দায় পড়েছেন তাতীবাজারের ভোলানাথ সাহা, অমিত কুমার, উত্তরার জাফর হোসেন ও তার স্ত্রী নাদিরা সুলতানাসহ অসংখ্য পাসপোর্টযাত্রী।
ঢাকার নাখালপাড়ার আজিজুর রহমান বলেন, বহুবার ভারতে গিয়েছি কিন্তু বেনাপোলে এসে এমন সমস্যায় কখনো পড়িনি। সবগুলো কাউন্টার ঘুরেছি কোথাও কোনো টিকিট পেলাম না।
গাজীপুরের একটি রফতানিমূখী সোয়েটার কারখানার অপারেটর বেনাপোলের পুটখালি অভয়বাস গ্রামের আজিরন খাতুন বলেন, ঈদের সময় বাড়ি আসতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। বাড়িতে সবার সঙ্গে ঈদ উদযাপন একটু আলাদা মজা।
এছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে যাত্রীদের।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘ঈগল পরিবহন’ এর বেনাপোল অফিসের ব্যবস্থাপক এম আর রহমান জানান, এখন ঢাকা থেকে খালি গাড়ি নিয়ে আসতে হচ্ছে তবু অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না, সরকারের নির্ধারিত ভাড়াই নেয়া হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, এতদিন সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে একশ টাকা কম নেয়া হতো। এখন ওই টাকা কম নেয়া হচ্ছে না। তাই অভিযোগ করছে যাত্রীরা। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সকল পরিবহনের টিকিটি বিক্রি হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
সোহাগ পরিবহনের বেনাপোল কাউন্টারের ম্যানেজার সহিদুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত পরিবহন দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশ্বাসও পেয়েছি।
জামাল হোসেন/এফএ/এমএস