বাঘারপাড়ায় আ. লীগের কর্তৃত্ব দখলে দুই ভাই মুখোমুখি
যশোরের বাঘারপাড়ার জহুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্তৃত্বকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের দুটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। দলের নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব নির্বাচন এবং সংগঠনের কার্যালয়ের কর্তৃত্বসহ সবক্ষেত্রেই ছোট ভাই ইউপি চেয়ারম্যান দীলু পাটোয়ারী ও তার বড় ভাই নুর মোহাম্মদ পাটোয়ারী একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এরই জের ধরে বড় ভাই নুর মোহাম্মদ পাটোয়ারী ১৮ সেপ্টেম্বর বিস্ফোরক মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার প্রতিবাদে বুধবার ছোট ভাই ইউপি চেয়ারম্যান দীলু পাটোয়ারী প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা যুবলীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান দীলু পাটোয়ারী বলেন, আমার ভাই নুর মোহাম্মদ পাটোয়ারী ২০১১ সালে প্রথমবার আমার কাছে চেয়ারম্যান পদে হেরে প্রতিপক্ষ ভাবতে শুরু করেন। এরপর থেকে সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনেও দ্বিতীয়বারের মতো হেরে যান। এভাবে প্রতিপক্ষ হয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর আমার নামে বোমা বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের মিথ্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় আমার সঙ্গে ইউপি মেম্বার, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ মোট ২৬ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, স্থানীয় এমপি রণজিৎ রায়ের নির্দেশে তার ভাই অব্যাহত ষড়যন্ত্র, এমনকি তাকে হত্যার চক্রান্ত করছেন। এ বিষয়টি তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।
অপরদিকে এসব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ জানান, তিনি জহুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয় চতুরবাড়িয়া বাজারে আবু তাহের মিয়ার ঘর ভাড়া নিয়ে দলের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে তার ছোট ভাই চেয়ারম্যান দিলু পাটোয়ারীর নেতৃত্বে এ অফিসে ভাঙচুর ও বোমা হামলা করে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী এবং এমপি রণজিতের ছবি সম্বলিত ব্যানার সরিয়ে ফেলা হয়।
এ ঘটনায় ১৮ সেপ্টেম্বর মামলা করা হয়। নুর মোহাম্মদ আরও দাবি করেন, শুধু এটাই প্রথম না, এর আগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও বোমা হামলা করা হয় চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে। এঘটনাও মামলা হয়েছে।
মিলন রহমান/এমএএস/এবিএস