শার্শার আইয়ুব হত্যায় তিনজনের যাবজ্জীবন


প্রকাশিত: ০৩:১৬ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬

যশোরের শার্শার কন্যাদহ গ্রামের আইয়ুব হোসেন হত্যা মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় হামজের আলী নামে অপর এক আসামিকে খালাস দিয়েছে আদালত।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, শার্শার কন্যাদহ গ্রামের হায়দার আলী গাইনের ছেলে মোনাজাত গাইন, মৃত আফছার গাইনের ছেলে শাহজাহান গাইন ও ঝিকরগাছার পাঁচপোতা গ্রামের তাহের আলীর ছেলে ইউনুচ আলী।

বুধবার স্পেশাল জজ (জেলা জজ) আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন স্পেশাল পিপি এসএম বদরুজ্জামান পলাশ।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের ২৩ অক্টোবর সকালে আইয়ুব আলী বাড়ি থেকে গ্রাম্য চিকিৎসক শের মোহাম্মদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে যশোর শহরে চিকিৎসা সেবা নিতে যেতেন।

বেলা ১১টার দিকে রামপুর গ্রামের বাদশা ও মিজানুর বাড়িতে এসে আইয়ুব আলীকে খুঁজতে থাকে। এসময় বাড়ির লোকজন বিষয়টি জানতে চাইলে তারা জানায় মোনাজাত, শাহজাহান ও ইউনুচ আলীসহ ১০/১২ জন আইয়ুবকে হত্যার উদ্দেশ্যে মিটিং করেছে। এ সংবাদের ভিত্তিতে ইউনুচ আলীসহ বাড়ির লোকজন আইয়ুকে খুজতে শার্শা বাজারে গিয়ে তার দেখা পায়। এরপর আইয়ুব আলী মোটরসাইকেলে ও অন্যরা সাইকেলে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হয়।

পথিমধ্যে একটি গুলির শব্দ শুনতে পায় ইউনুচ আলী ও অন্যরা। তারা দ্রুত গিয়ে দেখতে পায় চটকাপোতা গ্রামের মাওলা বক্সের বাড়ির সামনে রাস্তায় দা নিয়ে আইয়ুব হোসেনের ওপর হামলা করেছে মোনাজাত ও শাহজাহান। এরপর তাদের দেখে তারা গুলির ভয় দেখিয়ে মোটরসাইলে নিয়ে চলে যায়। আইয়ুবকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে মারা যান।

এ ব্যাপারে নিহতের ভাই ইউনুচ আলী বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে শার্শা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত শেষে ১২ জনকে অভিযুক্ত ও একজনের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

অভিযুক্তরা হলো, শার্শার রামপুর গ্রামের নুর মোহাম্মাদ, মাছুর আলী বিশ্বাস, কন্যাদহ গ্রামের আব্দুল হামিদ, সুলতান মোল্যা, শাহজাহান গাইন, মোনাজাত গাইন, আতর আলী, রেজাউল গাইন, শ্যামলাগাছি গ্রামের জুলু, দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের আবুল, হামজের আলী ও ঝিকরগাছার পাঁচপোত গ্রামের ইউনুচ আলী।

২০০৪ সালের ২০ নভেম্বর দায়রা জজ মাহবুবর রহমান মামলার শুনানি শেষে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ায় মোনাজাত গাইন, শাহজাহান গাইন, ইউনুচ আলী ও হামজের আলীকে অভিযুক্ত করে চার্জ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করেন।

দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে হত্যার জড়িত থাকায় বিচারক আসামি মোনাজাত গাইন, শাহজাহান গাইন ও ইউনুচ আলীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে ২০ হাজার জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালস দেয়া হয়েছে হামজের আলীকে। সাজাপ্রাপ্ত তিনজন পলাতক রয়েছেন।  

মিলন রহমান/এআরএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।