অঝোরে কাঁদলেন বাবা-মা
ছেলের সন্ধানে সংবাদ সম্মেলন করতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন যশোর সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মর্জিনা বেগম। পাশ থেকে ডুকরে কেঁদে ওঠেন তার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান। ছয় মাস আগে তাদের ছেলে সবুজ হোসেন (৩০) বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ সবুজ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবুজ সবার ছোট। স্থানীয় খাজুরা বাজারে ইঞ্জিন মিস্ত্রির কাজ করতো। বাঘারপাড়ার দুর্গাপুর গ্রামের আবদুল গফফারের ছেলে তারিকুল ইসলাম তারেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল। সেই বন্ধু বিদেশ পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ছেলেকে পাচার করে দিয়েছে। গত ৯ এপ্রিল বাড়ি থেকে বের হয় সবুজ। আর ফেরেনি।
সংবাদ সম্মেলনে মর্জিনা বেগম বলেন, ‘ছেলেডার জন্যি ছয় মাস ঘরে মাথা দিতি পাচ্ছিনে, সে যে গেল আর ফিরে আসেনি। কাজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ছিলো। ও বাবা তোমরা আমার ছেলেডারে আইনে দ্যাও।’
সংবাদ সম্মেলনে সবুজের বাবা লুৎফর রহমানের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোফাজ্জেল হোসেন। লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, সবুজ গত ৯ এপ্রিল বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে আর ফিরে আসেনি। তাকে খোঁজাখুঁজির পর সন্ধান না পেয়ে গত ১৩ এপ্রিল কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। যার নম্বর ৬৮৬। প্রায় এক মাসেও সবুজের সন্ধান না পেয়ে ৫ মে চারজনকে আসমি করে মামলা করা হয়। যার নম্বর ১৭।
মামলার আসামিরা হলেন- বাঘারপাড়ার দুর্গাপুর গ্রামের আবদুল গফফারের ছেলে তারিকুল ইসলাম তারেক, তারিকুল ইসলাম তারেকের স্ত্রী রাবিয়া খাতুন, আবদুল গাফফার ও তার আরেক ছেলে আব্দুল্লাহ। কিন্তু ছয় মাসেও আসামিদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম আফজাল হোসেন, নিখোঁজ সবুজের ভাবি হাসিনা খাতুন, চাচাতো ভাই মোফাজ্জেল হোসেন, প্রতিবেশী নাজমুল ইসলাম ও তোফাজ্জেল হোসেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার রকিবুজ্জামান বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
মিলন রহমান/এফএ/এমএস