‘এতো কষ্ট মেনে নেয়া যায় না’
‘খালিশপুর-জিন্নানগর সড়কটি একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী। প্রতিদিন ঢাকায় চলাচলকারী ৭টি পরিবহন যাতায়াত করে ওই সড়ক দিয়ে। কোনো চালককে বুঝিয়ে রাস্তায় গাড়ি পাঠালে ফিরে এসে সে আর যেতে চান না। প্রতিদিন এত কষ্ট মেনে নেয়া যায় না।’ এভাবেই নিজের যন্ত্রণার কথা জানালেন কালীগঞ্জ মোটর মালিক সমিতির সদস্য আব্দুল ওয়াহেদ বিশ্বাস।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝিনাইদহ জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমের একটি উপজেলা মহেশপুর। ভারত সীমান্ত ঘেঁষা এই উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬ ইউনিয়নের মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়ক খালিশপুর-জিন্নানগর ভায়া দত্তনগর সড়ক।
কালীগঞ্জ-জীবননগর হাইওয়ে সড়কের খালিশপুর বাজার থেকে বের হয়ে মহেশপুর শহরের উপর দিয়ে চলে গেছে জিন্নানগর সড়কটি। মহেশপুর উপজেলার এসবিকে, পান্তাপাড়া, স্বরূপপুর, শ্যামকুড়, নেপা, কাজীরবেড় ইউনিয়নের পাশাপাশি ফতেপুর, বাঁশবাড়িয়ার ইউনিয়নের কিছু মানুষ চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে।
এর সঙ্গে রয়েছে মহেশপুর পৌরসভার মানুষ, যারাও এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু বর্তমানে ওই সড়কটি চলাচলের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা দীর্ঘদিন বিরাজ করলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে জানান, সড়কটি সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া ৪২ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ সড়কটি নতুন করে মেরামতের প্রকল্পও হাতে নেয়া হয়েছে। 
ওই সড়কে অবস্থিত গুড়দা বাজারের বাসিন্দা দবির হোসেন জানান, একটি উপজেলার অর্ধেকের বেশি মানুষ যে সড়ক দিয়ে চলাচল করে সেই সড়কের এই অবস্থা ভাবাই যায় না। সড়কটিতে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। অনেক স্থানে গর্ত এতোই বড় তৈরি হয়েছে যে প্রায়ই চলাচলকারী যানবাহন উল্টে দূুর্ঘটনায় পড়ছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ব্যবহার করে এই রাস্তাটি।
স্থানীয় স্বরূপপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান, তারা প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে গালমন্দ শুনছেন। সওজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা এ বিষয়ে অনেকবার যোগাযোগ করেছেন। তারাও আশ্বস্ত করতে পারেননি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সড়কটি মেরামতের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। যা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
আহমেদ নাসিম আনসারী/এসএস/এমএস