পাটের বাম্পার ফলনেও কৃষকের মনে নেই আনন্দ


প্রকাশিত: ১১:০১ এএম, ০৮ অক্টোবর ২০১৬

যশোরের শার্শা-ঝিকরগাছায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলনেও কৃষকের মনে আনন্দ নেই। পাটের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের লোকসান গুণতে হচ্ছে প্রতি বিঘায় ২/৩ হাজার টাকা। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শার্শায় ৫ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর। আর ঝিকরগাছায় ৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে পাটচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে।

এ বছর সবচেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে এবং ফলনও পূর্বের যেকোন সময়ের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ধান চাষে বার বার লোকসান হওয়ায় শার্শা ও ঝিকরগাছার কৃষকরা পাট চাষে ঝুঁকে পড়েছিল। কিন্তু পাটের দাম কমে যাওয়ায় হতাশ চাষীরা

শার্শার স্বরূপদাহ গ্রামের আব্দুল মান্নান ও ঝিকরগাছার বল্লা গ্রামের মেহেদী হাসান চঞ্চল জানান, তারা ১০বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিল। বিঘা প্রতি গড়ে ১৩/১৪ মণ পাট পেয়েছেন। তাদের দাবি, ভারতীয় উচ্চ ফলনশীল জাতের পাট চাষ করে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে।

Benapole-Jute-value

পাট চাষে বীজক্রয়, জমি প্রস্তুত, সার-কীটনাশক, পরিচর্যা (নিড়ানি) ও সেচ বাবদ খরচ হয়েছে বিঘায় ১০-১১ হাজার টাকা। এরপর পাট কাঁটা-বাঁধা, বহন, পঁচানো (জাগ) ও ছাল ছাড়ানোসহ (ধোয়া) খরচ হয়েছে ৬-৭ হাজার টাকা। তারপর পাট শুকানোতেও খরচ হয়েছে দেড়-দুই হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষ থেকে শুরু করে মহাজনের পাল্লায় পৌঁছাতে খরচ হচ্ছে ২২-২৩ হাজার টাকা। গত এক সপ্তাহ ধরে শার্শা ও ঝিকরগাছার বিভিন্ন হাটবাজারে পাট বিক্রি হচ্ছে ১৫’শ টাকা মণ দরে।

ঝিকরগাছা বোটঘাট রোডের পাট ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম ও শার্শার বেনাপোলের আব্দুল হান্নান জানান, পাটের প্রকারভেদে কেনা হচ্ছে ১৪৮০ থেকে ১৫৩০ টাকা পর্যন্ত। সে হিসেবে প্রতি বিঘা জমির পাট বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছে ২০-২২ হাজার টাকা। ফলে বিঘা প্রতি কৃষকের লোকসান গুণতে হচ্ছে ১ থেকে ২ হাজার টাকা। তবে বর্গা চাষীদের লোকসানের পরিমাণ আরো বেশি।

উপজেলার নোয়ালী গ্রামের আলমগীর হোসেন (টরেল) জানান, পাট চাষ করে লাভ হয়েছে শুধু পাটকাটি। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে পাট বিক্রি করতে পারলে কৃষকের মুখে হাসি থাকতো এমনটাই প্রত্যাশা অনেক কৃষকের।

শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার হীরক কুমার সরকার জানান, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি পাট চাষ হয়েছে। পাটের আবাদও ভাল হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির জন্য চাষীরা পাট সুন্দরভাবে জাগ দিতে পেরেছেন। পাটের দাম অনেক ভাল। পাটের দাম পেয়ে চাষীরা বেশ খুশি।  

জামাল হোসেন/এসএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।