ভাঙা সেতুর ওপর বাঁশের সাঁকো
সেতুটি ভেঙে গেছে ৮ মাস আগে। এদিকে প্রশাসনের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তাই ঝিনাইদহের কিছু উদ্যোগী তরুণ সেতুর উপর তৈরি করলেন বাঁশের সাঁকো। আর এ সাঁকো তৈরি করতে তাদের ৫০০ বাঁশ এবং সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঝিনাইদহের নারিকেলবাড়িয়া-টিকারী সড়কের টিকারী বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সাঞ্চায় নদী। এই নদীর উপর বাজারের কাছেই ১৯৯৪ সালে নির্মিত হয় একটি সেতু। স্থানীয় এলজিইডি বিভাগ সেতুটি নির্মাণ করেন।
এই সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করে ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার জিতড়, মিয়াকুন্ডু, কুশোবাড়িয়া, ধনঞ্জয়পুর, মুক্তারামপুর, মাড়নিব্দ, নারিকেলবাড়িয়া, টিকারী, দহখোলা, দিঘিরপাড়, লক্ষ্মীপুর, মালঞ্চি, ব্যাংশ, বেরুইলসহ পার্শ্ববর্তী বেশ কিছু গ্রামের মানুষ।
ঝিনাইদহ জেলা শহর থেকে নারিকেলবাড়িয়া টিকারী হয়ে মাগুরা শহরে চলে গেছে এই রাস্তাটি। যে কারণে ভারি যানবাহনও চলাচল করে এই সেতুর উপর দিয়ে। কিন্তু গত ৬ জুন হঠাৎ করে সেতুর মাঝের অংশ ভেঙে পড়েছে।
ফুরসন্ধি গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ চন্দ্র জানান, সেতুটি ভেঙে পড়ার ৮ মাস আগে সেতুটির মাঝের অংশ কিছুটা নিচু অনুভব করেন তারা। এই অবস্থা দেখে স্থানীয় এলজিইডি অফিসে খবর দেন। খবর পেয়ে তারা আসেন এবং একটি সাইনবোর্ড দিয়ে যান ভারী যানবাহন চলাচল না করার জন্য।
সেইভাবে চলে আসছিল। ভারী যানবাহন চলাচল করতো না। ভ্যান, নসিমন, করিমন, বাইসাইকেল চলাচল করতো। মাঝে মধ্যে দুই একটি গরুর গাড়ি চলাচল করতো। এই অবস্থায় ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ করে সেতুটির মাঝের অংশ ধসে নিচে পড়ে যায়। এ সময় টিকারী গ্রামের সজিব হোসেন ও দুলাল মিয়া নামে দুই পথচারী সামান্য আহত হন। তারা ঘটনার সময় সেতুর উপর দিয়ে পার হচ্ছিলেন।
পলাশ বিশ্বাস নামে এক যুবক জানান, সেতুটি ভেঙে পড়ার এক মাস পরও জনসাধারণের চলাচলের কোনো ব্যবস্থা করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ভোগান্তির শেষ ছিল না সাধারণ মানুষের। কেউ ১০/১২ কিলোমিটার ঘুরে আবার কেউ ঝুঁকি নিয়ে তালের ডিঙ্গায় পার হচ্ছিলেন সাঞ্চায় নদী।
অনেকগুলো দুর্ঘটনাও ঘটেছিল ওই এক মাসে। খরচ তুলতে তারা পথচারীদের কাছ থেকে কিছু পয়সা নিচ্ছেন। পথচারীরা ২/১ টাকা দেন। মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা, নসিমন, করিম এ সকল যানবাহন থেকে ৫ টাকা করে নিচ্ছেন তারা। এভাবে তারা খরচ উঠানোর চেষ্টা করছেন।
এলাকাবাসী দাবি, কাঠ-বাঁশের এই সেতুটি ব্যবহার করতে কারো কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে পানিতে বাঁশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় রয়েছে তাদের। যে কারণে তারা দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি করেছেন।
এলজিইডির ঝিনাইদহ নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, অর্থ বরাদ্ধ ছাড়া কিছু করার থাকে না। আমরা বরাদ্দ আসার অপেক্ষায় আছি।
আহমেদ নাসিম আনসারী/এসএস/এবিএস