সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের মুক্তি প্রক্রিয়া আটকে গেলো
কারাগারে থাকা সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের মুক্তি প্রক্রিয়া আটকে গেছে। নতুন এক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন জমা পড়ায় আপাতত ছাড়া পাচ্ছেন না তিনি।
জুলাই আন্দোলনকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাদরাসা ছাত্র মো. আরিফ নিহতের মামলায় খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান এ আবেদন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক আগামী ৩০ মার্চ আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা পাঁচটি মামলায় জামিন পান সাবেক এ প্রধান বিচারপতি। এর মধ্যে চারটি মামলায় গত রোববার এবং বাকি একটি মামলায় বুধবার জামিন মঞ্জুর করা হয়। তবে এর মধ্যে মঙ্গলবার নতুন করে যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়। যার ফলে তার কারামুক্তির প্রক্রিয়া আটকে গেলো।
২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট করা ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহত আরিফের বাবা মো. ইউসুফ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সকাল ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ী এলাকার কুতুবখালীর বউবাজার সড়কে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে আরিফ নিহত হন।
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে আগে একটি করা হয় জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে এক যুবদল কর্মী হত্যার অভিযোগে। সেই সঙ্গে চারটি মামলা করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংক্রান্ত রায়ে জালিয়াতির অভিযোগে।
খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়, যার মাধ্যমে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।
এমডিএএ/একিউএফ