কালের আবর্তে বাঁশ শিল্প এখন মৃত প্রায়
কালীগঞ্জের অনেক ঋষি পরিবার পূর্ব পুরুষের পেশা ছেড়ে চলে গেছে অন্য পেশায়। কিন্তু এখনও পোড় খাওয়া হাজারো শিল্পী পূর্ব পুরুষের শেখানো কাজের ওপর মেধা ও শ্রম দিয়ে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন এ শিল্পটিকে। নিজেদের জীবনযুদ্ধের কথা এভাবেই জানালেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার শিবনগরের সুধীর দাস ও আরতী দাস।
তারা আরও জানান, এক সময় শহর ও গ্রাম সবখানে বাঁশের তৈরি মোড়া ও মিটসেফের ব্যবহার ছিলো সচরাচর। বর্তমানে প্লাস্টিকের চেয়ার দখল করেছে মোড়ার স্থান। এক সময় গ্রামে বাঁশের তৈরি ঝুড়ি, ধামা, মোড়া, কুলা, মাছধরার নানান জাতের ফাঁদ ধান রাখার ডোল, গোলা ইত্যাদি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু কালের আবর্তে আধুনিক সভ্যতার উৎকর্ষতায় হারিয়ে যেতে বসেছে এসবের ব্যবহার।
চাঁচড়া গ্রামের সমীর দাস জানান, পুঁজি না থাকায় কালীগঞ্জের ভাটপাড়া জগন্নাথপুর, বেজপাড়া রেলগেট, ভোলাডাঙ্গা, বালিয়াডাঙ্গা, শিবনগর, চাঁচড়া এলাকার ঋষিপরিবারের অনেকেই এখন ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে আছেন।
চাঁচড়া গ্রামের তারাপদ দাস জানান, বাঁশের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের মতো লাভ হয় না।
শিবনগরের বাঁশ শিল্পী বিমল দাস জানান, ব্যবহার কমেছে গোলা আর ডোলের। তাই এখন ঝুড়ি, টেপারী ও চাটাই এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে কালীগঞ্জের বাঁশ শিল্প। অথচ একটা সময় ছিল কি শহর কি গ্রাম প্রতিটি বাড়িতে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র ছাড়া যেন কল্পনাও করা যেত না।
কালীগঞ্জের তারা দাস, সুধীর দাস, চম্পা দাস ও আরতী দাস জানান, এবার কয়েকদিন টানা বর্ষা হওয়ায় মাছ ধরার ফাঁদ তৈরি করে বেশ কিছু বাড়তি আয় হয়েছে। ভগবান যদি প্রতি বছর এরকম বৃষ্টি দিতো তাহলে দুমুঠো খেয়ে পরে বাঁচতে পারতাম। অন্য জিনিসের চাহিদা কম থাকায় তারা এখন ঝুড়ি ও টেপারীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। প্রত্যেকটি টেপারী ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করে। এতে টেপারী প্রতি ১৫ টাকা করে লাভ থাকে।
কালীগঞ্জের এবস বাঁশ শিল্পীরা সরকারি বা বেসরকারিভাবে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং সুদমুক্ত ঋণ দিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/এবিএস