হরিণাকুন্ডুতে ঐতিহ্যবাহী ঝাপান খেলা অনুষ্ঠিত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ০৮:৫২ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৬

সাপ! শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে ভয়ঙ্কর এক প্রাণির ছবি। যার দংশনে মুহূর্তেই ঝরে যেতে পারে কোন নিরীহ প্রাণ। তবে সাপ যে সবসময় মানুষের প্রাণ সংহার করে তা নয়। কখনো কখনো এই নিরীহ প্রাণিটি মানুষকে বিনোদন দিয়ে থাকে।

হারিয়ে যাওয়া এই খেলা আবারো ফিরিয়ে আনতে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার পারমথুরাপুর গ্রামের মাঠে আয়োজন করা হয় জাঁকজমকপূর্ণ প্রতিযোগিতার। এখানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঝাপান খেলা।

পারমথুরাপুর গ্রামের মাঠে এ খেলায় অংশ নেয় ১১টি সাপুড়ে দল। ঝাপান খেলাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা রূপ নেয়, উৎসবের আমেজ। সাপুড়েদের বিভিন্ন কৌশল আর বাদ্যের তালে তালে ফনা তোলা সাপের কসরত দেখে, আনন্দে মেতে উঠেন দর্শকরা।

snake

বাদ্যের তালে তালে ঝুড়ি থেকে বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর সব সাপ। আর তা দেখে আনন্দে নেচে উঠেন শত শত দর্শক। তাদের করতালি একটুও বিচলিত করেনি বিষধর এসব সাপকে । মনিবের ইশারা ইঙ্গিত তাকে ঠিক বুঝিয়ে দিয়েছে, শুধু মানুষকে আনন্দ দিলেই হবে, জিততে হবে মর্যাদার লড়াইয়ে।

অংশগ্রহণকারী সাপুড়ে আব্দুর রশিদ জানান, এটা আমাদের বাপ দাদার পেশা। আমার আগে আমার বাবা, তার আগে তার বাবা সবাই সাপ খেলা দেখিয়ে জীবনধারণ করতেন। আমরা বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সাপ নিয়ে ঘুরে বেড়াই।

এ ধরনের আয়োজন হলে এলাকার সাপুড়েদের মিলন মেলায় অনেক ভাব বিনিময় ও বিভিন্ন প্রজাতির সাপের খোঁজখবর পাওয়া যায় বলে জানান বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাপুড়েরা।

এ ব্যাপারে আয়োজক আব্দুল­াহ আল মামুন বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এই খেলার আয়োজন। কালের বিবর্তনে অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে। কিন্তু ঝাপাং গানের কোনো হেরফের হয়নি। সেই মধ্যযুগ হয়ে একবিংশ শতাব্দীর মানুষের কাছে এখনো সমান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে এটি।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।