অপমানের বিচার দাবি শিক্ষক শ্যামল কান্তির


প্রকাশিত: ১০:৪৪ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০১৬

জনসম্মুখে লাঞ্ছিতের ঘটনার বিচার দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত। লাঞ্ছিতের ঘটনার গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির কাছে সোমবার তিনি এই দাবি জানান।

শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, আমাকে যে অপমান করেছে, যা আপনারা দেখেছেন সেটার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছি। আমার সঙ্গে যে অঘটন ঘটিয়েছে অভিযুক্তকারীর তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।

ধর্ম নিয়ে কটূক্তির কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এটা অতিরঞ্জিত কথা এবং এটা এক পলিটিক্যাল ট্রিক্সও হতে পারে বা পলিটিক্যাল পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এছাড়া আমাকে স্কুল থেকে কেন অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। আমাকে অন্যায়ভাবে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তবে তিনি তদন্ত দলের কাছে কী বলেছেন তা বিস্তারিত জানা যায়নি।

সার্কিট হাউজ থেকে কড়া পুলিশ প্রহরায় তাকে বের করা হয়। এর আগে সকালেও কঠোর প্রহরায় তিনি সার্কিট হাউজে আসেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা হতে বেলা ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী হাবিবসহ তিন সদস্যের এক দলের কাছে বক্তব্য দেন। এদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত আরো কয়েকজনের বক্তব্য রেকর্ডের কথা রয়েছে।

সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সার্কিট হাউজে আসেন ঢাকা সিএমএম আদালতের চিফ ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম ও গোলাম নবী। সাড়ে ১০টায় প্রবেশ করে বেলা ১টা ১০ মিনিটে বেরিয়ে যান শ্যামল কান্তি ভক্ত।

তবে সোমবার স্কুলে গণশুনানির মত সার্কিট হাউজে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছেন অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিচার ও শাস্তি দাবিতে ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান অনুসারীরা অবস্থান করেন। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের কয়েকজন কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। যাদের সচরাচর সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যায়। গণশুনানিতে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে বেশির ভাগই সেলিম ওসমান সমর্থিত।   

এর আগে একই দল সোমবার বেলা ১১টা হতে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ঘটনাস্থল বন্দরের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে যে ছাত্রকে নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত সেই রিফাত হাসানসহ ১৯ জনের বক্তব্য গ্রহণ করেন। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত আরো কয়েকজনের বক্তব্য গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে গত ১৩ মে পিয়ার সাত্তার লতিফ স্কুলে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কানে ধরে উঠবস করান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। ওই ঘটনায় আদালত পরে গত ৭ আগস্ট হাইকোর্ট এক আদেশে তদন্ত করতে ঢাকা সিএমএম আদালতে একজন বিচারককে নির্দেশ দেন।

শাহাদাত হোসেন/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।