সুনামগঞ্জের তিন বন্দর দিয়ে আবারো কয়লা আমদানি
সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম ভাণ্ডার সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার তিন শুল্কবন্দর (বড়ছড়া, চারাগাঁও-বাগলী) দিয়ে আবারো কয়লা আমদানি শুরু হচ্ছে। ১ নভেম্বর থেকে এ তিন বন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি কার্যক্রম চলবে।
জানা যায়, কয়লা আমদানি আবারো শুরু হওয়ার খবরে বন্দর সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উৎফুল্ল দেখা দিয়েছে। বছরের পর বছর এই তিন শুল্ক বন্দর বন্ধ থাকায় অর্ধাহারে-অনাহারে দিনযাপন করে অবশেষে কাজের সন্ধানে শহরপানে ছুটে যাচ্ছেন অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার।
তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি আলহাজ্ব আলকাছ উদ্দিন খন্দকার ও কোষাধ্যক্ষ জাহের আলী ভারতীয় রফতানিকারকদের বরাত দিয়ে জানান, ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের (এনজিটি) রায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় রফতানিকারকরা সে দেশের উচ্চ আদালতে আপিল করলে উত্তোলিত কয়লা রফতানির জন্য ৮ মাস সময় বাড়িয়েছেন আদালত। ফলে ১ নভেম্বর থেকে আবারো আমদানি কার্যক্রম চালু হচ্ছে।
তারা জানিয়েছেন, এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা এলসি করতে শুরু করেছেন।
সূত্র জানায়, ভারতের মেঘালয়ের পরিবেশ আদালতের এক আদেশে গত ২ বছর ধরে এই তিন শুল্ক বন্দর দিয়ে দফায় দফায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন বন্দরের ৮ শতাধিক আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অর্ধ লক্ষাধিক শ্রমিক পরিবার।
প্রসঙ্গত, ভারতের মেঘালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ডিমাহাসাও’ জেলা ছাত্র ইউনিয়নের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) মেঘালয়ে কয়লা খনন ও পরিবহন বন্ধের নির্দেশ দেন। একই বছরের ৬ মে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় মুখ্যসচিব এ ব্যাপারে প্রতিটি জেলায় নির্দেশ জারি করেন।
ফলে ১৩ মে থেকে মেঘালয় সীমান্ত জেলাগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি করে কয়লা পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এরপর থেকে বন্ধ হয়ে যায় সুনামগঞ্জের তিনটি শুল্কবন্দরসহ সিলেট ও ময়মনসিংহ জেলার সকল শুল্কবন্দরের আমদানি কার্যক্রম। পরবর্তীতে রফতানিকারকরা আইনী লড়াই করে প্রথমে উত্তোলিত কয়লার রাজস্ব জমা দিয়ে তিন মাস (এপ্রিল, মে ও জুন) রফতানির সুযোগ পায়।
সর্বশেষ গত বছরের ১৬ মে থেকে কয়লা রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। এ ফাঁকে অপেক্ষাকৃত উন্নতমানের মেঘালয়ের কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় দেশের বাজার দখল করে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, চীন ও আফ্রিকার কয়লা।
এসএস/পিআর