ভিক্ষা করে বেঁচে আছেন মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক


প্রকাশিত: ০৪:৫০ এএম, ০৪ নভেম্বর ২০১৬

১৯৭১ থেকে ২০১৬। স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছর পার করেছে বাংলাদেশ। পাল্টে গেছে বাংলার চিত্র। কিন্তু পাল্টায়নি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের ভাগ্য। অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছেন তিনি। মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। বয়সের ভারে কাজ করতে না পারায় ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালি গ্রামে। ভিক্ষা করেন ঝিনাইদহের বিভিন্ন স্থানে।
সম্প্রতি ভিক্ষা করতে দেখা গেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাটগোপালপুর বাজারে।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি ভারতের বনগাঁ কাঁঠাল বাগান এলাকায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে শৈলকুপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রহমত আলী মন্টুর নেতৃত্বে শৈলকুপার আলফাপুর, কুমিরাদহ, আবাইপুর ও বাগনী এলাকায় যুদ্ধ করেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৫ বছর পরও তার স্বীকৃতি মেলেনি। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তার পরিচয়পত্র দিয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী। শৈলকুপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রহমত আলী তার সনদপত্র দিয়েছেন। কিন্তু মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধাদের ১২৫নং তালিকায় তার নাম থাকলেও স্বীকৃতি পাননি।

তিনি আরও জানান, সরকারি সহযোগিতার জন্য বার বার বিভিন্ন মহলে ধরনা দিলেও তার কথায় কর্ণপাত করেনি কেউ। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা তো দূরের কথা, বয়স্কভাতাও জোটেনি তার কপালে। অসুস্থ আব্দুর রাজ্জাক একদিন ভিক্ষায় বেরোতে না পারলে সারাদিন সংসারের সবাইকে অভুক্ত থাকতে হয়। চিকিৎসার অভাবে প্রায়ই রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে।

শৈলকুপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রহমত আলী মন্টু বলেন, আব্দুর রাজ্জাক আমার নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু আজ পর্যন্ত তার স্বীকৃতি মেলেনি কী কারণে- তা আমার জানা নেই। তার বাড়ি পাশের জেলায় হওয়ার কারণে আমি কিছুই করতে পারছি না।

এ ব্যাপারে মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নবুয়াত হোসেন মোল­্লার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আব্দুর রাজ্জাককে সেভাবে চিনি না। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড তার বিষয়ে জানতে পারে। সেখানে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানতে পারেন।

এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।