শরীয়তপুরে রোপা আমনের বাম্পার ফলন : দাম নিয়ে শঙ্কা
শরীয়তপুরে এবার রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তাদের চোখে-মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক। কিন্তু এবার রোপা আমনের দাম কম হওয়ায় চিন্তিত কৃষকেরা।
শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলার ছয়টি উপজেলায় রোপা আমন চাষের জন্য ৭ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ৭ হাজার ৮২০ হেক্টর অর্থাৎ ৩৪৫ হেক্টর বেশি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সক্ষম হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু জমিতে পোকার আক্রমণ হলেও রোপা আমন চাষে কৃষকের মনে তেমন প্রভাব পড়েনি। পুরো উদ্যমে কৃষকেরা রোপা আমন ধান চাষ করেছে। আর এতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর পূর্ণ সহযোগিতা করেছে।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার স্বর্ণঘোষ গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, এ বছর রোপা আমনের ফলন ভালো হয়েছে। আমরা এখন ধান কাটায় ব্যস্ত। বাড়ির নারীরাও আমাদের সহযোগিতা করছে।
একই উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের মাকসাহার গ্রামের কৃষক বজলু বেপারি বলেন, এবার রোপা আমন চাষ করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের স্যারেরা আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে।
একই উপজেলার কাশাভোগ গ্রামের কৃষক আলী আকবর বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর রোপা আমনের চাষ ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম খুবই কম । প্রতি মণ ধান সাড়ে ৪০০ টাকা করে বিক্রি করতে হচ্ছে। এবার ধান বিক্রি করে কৃষি ঋণ পরিশোধ করতে পারবো কি না জানি না।
জাজিরা উপজেলার কুণ্ডেরচর ইউনিয়নের কৃষক আবুল হাসেম বলেন, তুলনামূলকভাবে এ বছর রোপা আমনের চাষ ভালো হয়েছে। গত বছর পোকা-মাকড়ের আক্রমণে আমার দুই জমির ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার কৃষি অফিসের স্যারেরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছে। তারা পাশে না থাকলে এবারও আমার ধান নষ্ট হয়ে যেতো। সঠিক সময়ে কীটনাশক দিতে পেরেছিলাম বলেই এবার রোপা আমনের ফলন ভালো হয়েছে।
একই উপজেলার লাউখোলা গ্রামের কৃষক মিজান চৌকিদার বলেন, যদিও রোপা আমন ফলন ভালো হয়েছে কিন্তু চাষ করতে আমাদের অনেক পরিশ্রম এবং খরচ হয়েছে। কারণ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আমাদের অনেক ভুগিয়েছে। তারপরও আমরা থেমে থাকিনি।
তিনি আরো বলেন, রোপা আমন ধান ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম কম থাকায় লাভবান হতে পারবো বলে মনে হচ্ছে না।
শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. কবির হোসেন বলেন, এ বছর রোপা আমন চাষে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল আমরা তার চেয়েও বেশি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের কর্মীদের আন্তরিকতা, কৃষকদের সদিচ্ছা ও সহযোগিতার কারণেই আমরা এ সাফল্য ঘরে আনতে পেরেছি।
ছগির হোসেন/আরএআর/পিআর