ছেলে হত্যার দায় স্বীকার করে মায়ের জবানবন্দি
দেওভোগ গ্রামে মাদরাসাছাত্র নাঈম ইসলামকে (১৩) হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন মা লুৎফা বেগম। এ সময় তিনি বলেন, নিজের ছেলেকে লাথি মেরে হত্যা করেছেন তিনি।
জবানবন্দি শেষে শনিবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার দেওভোগ গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে নাঈমের বস্তাবন্দি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পালং মডেল থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় নাঈমের বাবা নুরুল ইসলাম পালং থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় গত বৃহস্পতিবার মা লুৎফাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে লুৎফা বেগম বলেন, নাঈম ছিল দুরন্ত ও দুষ্ট প্রকৃতির। মায়ের কোনো শাসন সে মানতো না। খারাপ ছেলেদের সঙ্গে মিশে নেশা ও চুরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তাকে মাদরাসায় ভর্তি করা হলেও সে ঠিকমতো লেখাপড়া করতো না।
মা লুৎফা জবানবন্দিতে জানান, ছেলের আচরণে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে ৬ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে শাসন করার একপর্যায়ে ছেলে নাঈম তাকে বকা দেয় এবং মারতে আসে। এ কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে লাথি মারেন।
লাথি পুরুষাঙ্গে লাগলে তাৎক্ষণিক নাঈম জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং কিছুক্ষণ পরেই মারা যায়। পরে ছেলের মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের একটি কচুরিপানার ডোবায় লুকিয়ে রাখেন। সেখান থেকে ৯দিন পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পালং মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মো. ছগির হোসেন/এএম/আরআইপি