শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে বাড়ছে যাত্রী, কমছে টিকিট


প্রকাশিত: ০৯:১৫ এএম, ২০ নভেম্বর ২০১৬

হবিগঞ্জবাসীর রেলপথে যাতায়াতের একমাত্র ভরসাস্থল শায়েস্তাগঞ্জ জংশন। এ জংশনে দিন দিন যাত্রী সংখ্যা বেড়েই চলছে। বিভিন্ন ট্রেনে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করে থাকেন। তবে যাত্রী তুলনায় টিকিট সংখ্যা খুবই কম। এতে করে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে।

জংশন সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন ট্রেনের প্রথম শ্রেণির ২টি বার্থ ও ১৫ অক্টোবর থেকে পাহাড়িকা ট্রেনের বরাদ্দকৃত ৪টি এসি আসন বাতিল করা হয়েছে। যা থেকে মাসিক আয় ছিল ৭৮ হাজার ৮শ ৩২ টাকা।

এছাড়া চলতি বছরের ১৫ মে থেকে ঢাকাগামী উপবন ট্রেনের বরাদ্ধকৃত ‘ড’ বগি বাতিল করা হয়েছে, যার আসন সংখ্যা ছিল ২৫টি। ১২ মে থেকে জয়েন্তিকা ট্রেনের ‘ট’ বগি না চলায় ১৫টি টিকিট বিক্রি বন্ধ রয়েছে। ফলে মাসে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এ জংশনে যাত্রীখাত থেকে মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকার আয় কমেছে। এছাড়া যাত্রী সেবার মানও বাড়েনি নূন্যতম।

রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, প্লাটফরমের মাঝখানে যৎসামান্য কিছু আসন রাখা হয়েছে। যা যাত্রী তুলনায় অপ্রতুল। আর প্লাটফর্মের আশপাশে অবৈধ দোকানের কারণে পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।

দুটি যাত্রী বিশ্রামাগার থাকলেও বাথরুম নষ্ট এবং প্রায় সময়ই বন্ধ থাকে। শত শত যাত্রী বিভিন্ন চায়ের দোকানে, প্লাটফরমের আনাচে-কানাচে ও পিলারের সঙ্গে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে সময় পার করছেন। উল্টোদিকে সারা প্লাটফরম জুড়ে ভাসমান লোকে ভরে আছে।

ট্রেনযাত্রী মনির হোসেন বলেন, সড়ক পথের চেয়ে রেলপথে ভ্রমণ আনন্দদায়ক। তাই ট্রেনের প্রতি আগ্রহ বেশি। কিন্তুু কোনো কারণে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে না পারলে আসনবিহীন টিকিটে দাঁড়িয়ে যেতে হয়।

কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন বলেন, সকল আন্তঃনগর ট্রেনের অধিকাংশ টিকেট কালোবাজারীদের হাতে চলে যায়। ফলে ১৯৫ টাকার টিকেট কিনতে হয় ৩০০ টাকায়।

শায়েস্তাগঞ্জ রেল স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত মাস্টার মো. মোয়াজ্জুল হক জানান, আন্তঃনগর ৪টি ট্রেনের বরাদ্দকৃত টিকিট থেকে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ৫০টি টিকিট বাতিল করা হয়েছে। এতে মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকার আয় কমেছে যাত্রীখাত থেকে।

তিনি আরও জানান, আন্তঃনগর ট্রেনের বরাদ্দকৃত আসনের বিপরীতে প্রতিদিন তিনগুন যাত্রী এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই আসনবিহীন টিকিট নিচ্ছেন। কেউ কেউ বিনা টিকিটেও ভ্রমণ করেন। এতে করে সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব।

আসন বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীর বাণিজ্যিক কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে।

কামরুজ্জামান আল রিয়াদ/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।