নীলফামারীতে চা চাষে সাফল্য


প্রকাশিত: ০৬:০৫ এএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৬

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় পতিত জমিগুলো পরিণত হয়েছে দুটি পাতা একটি কুড়িঁর ফসল চা চাষের জমিতে। পাহাড়ি এলাকার ফসল হলেও সমতল ভূমিতে দেখা দিয়েছে চা চাষের সাফল্য। তামাক চাষ খ্যাত সমতল ভূমিতেও চা চাষ শুরু হওয়ায় কৃষকদের মাঝে এ নতুন ফসল চাষে আগ্রহ সৃষ্টি যেমন হয়েছে, তেমনি পড়েছে ব্যাপক সাড়া।

সবুজের সমারহ কাইজেন টি গার্ডেন দেখার জন্য এখন কিশোরগঞ্জ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষজন প্রতিদিন বাগানের দিকে ছুটছে। চা পাতার সবুজ চাদরে ঢেকে গেছে গোটা উপজেলা পরিষদ চত্বর। উপজেলার প্রায় ১৭ একর পতিত জমিতে সৃজিত চা বাগানগুলো সবুজ-সতেজ আর কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে।

১ বছর ৮ মাসে চা পাতা তোলা, উৎপাদন ও বাজারজাত শুরু হওয়ায় এ ফসল কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উন্নয়নের প্রতীকী ফসলে রূপ নেয়ার উজ্জল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

চা বাগান থেকে চা পাতা তুলে সনাতন পদ্ধতিতে চা প্রক্রিয়াজাত করে কাইজেন টি নামে বাজারজাত শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাজারে ধীরে ধীরে এর কদরও বাড়ছে। তামাক চাষিদের চা চাষের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধ করে চা চাষ ব্যাপকহারে করে এ উপজেলাকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা যাবে বলে অনেকের ধারণা।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বর প্রায় ২২ একর জমি নিয়ে অবস্থিত। পতিত জমিগুলো ব্যবহারের লক্ষ্যে পঞ্চগড়ে চা বোর্ডের কর্মরত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রথমে মাটি পরীক্ষা করে দেখা যায় যে এ এলাকার মাটি চা চাষের উপযোগী। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুনর্বাসিত ভিক্ষুক-দরিদ্র মানুষদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উপজেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক ভাবে ১ বিঘা জমিতে প্রায় ২ হাজার চা চারা রোপন করে চা চাষ করে আশাতিত ফল পান।

চা চারা রোপনের অল্পকিছু দিনের মধ্যে চা গাছ গজাতে শুরু করে। পরবর্তীতে আরো চারা এনে উপজেলা পরিষদের পতিত প্রায় সাড়ে ৪ একর জমিতে চা চাষ শুরু হয়। চা চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিনহা কোম্পানির পতিত জমিতে চা চাষের জন্য উদ্বুদ্ধকরণের ফলে তারাও তাদের পতিত প্রায় ৯ একর জমিতে চা চাষ শুরু করে।

Nilphamary

উপজেলার কেশবা গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন পতিত প্রায় ৩ একর জমিতে করা হয়েছে চা চাষ। এছাড়া চাষ করা হয়েছে মাগুড়া ইউনিয়নে তহশিল অফিসের ১ বিঘা ও উপজেলা ভূমি অফিসের ১৫ শতাংশ পতিত জমিতে চা চাষ হচ্ছে। চা চাষের সাফল্য দেখে এ এলাকার কৃষকদের বিষবৃক্ষ তামাক চাষের পরিবর্তে চা চাষের দিকে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বর্তমানে চা বাগানগুলো পুনর্বাসিত-দরিদ্রদের কর্মসংস্থানে পরিণত হয়েছে। তাদেরকে ঘণ্টা প্রতি ২০ টাকা করে দিয়ে বাগানে কাজে লাগানো হয়। দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করে ১৬০ টাকা করে পারিশ্রমিক পায়। চা বাগানের ফলে অলস হাতগুলো কর্মের হাতে পরিণত হয়েছে।

চা একটি অভিজাত ও দীর্ঘজীবী ফসল। চা চারা একবার রোপন করলে আনুমানিক ৭০ বছর কমপক্ষে ৫০ বছর উৎপাদন ক্ষমতা থাকে। বাণিজ্যিকভাবে ৫০ বছর এর পাতা উত্তোলন করা যায়। চা চারা রোপনের ৩ বছর পর থেকে প্রতি বছরে একরে আনুমানিক ২ লাখ ৭০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকার পাতা উত্তোলন হয়।

এতে খরচ বাদেই বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। যা অন্য কোনাে ফসল থেকে আসে না। এছাড়া অন্যান্য ফসলে কোনো বছরে কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে পারে আবার কোনো বছর লোকসান হয়। সেখানে চা চাষ প্রতি বছর একরে ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা লাভ দেয়।

অন্যদিকে যে জমিতে কোনো ফসল হয় না অথবা দিনের পর দিন পড়ে থাকতো এরকম পতিত জমিতেও উৎপাদিত হচ্ছে চা গাছ। লোকসান বিহীন ফসলের চাষ, পতিত জমিগুলো ব্যবহার আর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় চা চাষ উন্নয়নের প্রতীকী ফসল হিসেবে দেখা দিয়েছে।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন জাগো নিউজকে জানান, জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৫ এর নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, নীলফামারীর উদ্যোগে জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার সমতল ভূমিতে চা চাষে অভূতপুর্ব সাফল্য হয়েছে।

চা বাগানগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে এবং উন্নয়নের প্রতীকী ফসলে রূপ নেয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ এলাকার কৃষকদের বিষবৃক্ষ তামাক চাষের পরিবর্তে চা চাষের দিকে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ব্যাপক হারে চা চাষ করে এ জেলাকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসাবে গড়ে তোলা যেতে পারে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষদের এ কাজে উদ্যোগী হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো যাচ্ছে।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।