প্রতীক পেয়ে ভোটের প্রচারে প্রার্থীরা
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারে নেমেছেন মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরা।
দলীয় প্রতীকে ভোট হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র পদের প্রার্থীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।
সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডে অস্থায়ী কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান তালুকদার প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন।
এদিকে প্রতীক পেয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী (নৌকা) সেলিনা হায়াৎ আইভী ও বিএনপি প্রার্থী (ধানের শীষ) সাখাওয়াত হোসেন খান।
সোমবার সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছে। প্রতীক পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এলাকায় সাংবাদিকদের সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নয় শঙ্কা নয় ভয়, শহর হবে শান্তিময়। এটিই আমি বিশ্বাস করি।
আইভী জানান, তিনি চান, নারায়ণগঞ্জ সন্ত্রাসের জনপদ হবে না। শান্তির পরিবেশ সব সময় বিরাজ করবে। জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনতা অতীতে তার প্রতি আস্থা রেখেছেন। পাশে থেকেছেন। এবারও জনগণ তাকে ভোট দেবেন। নৌকায় ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করবেন।
এদিকে সকালে প্রতীক পাওয়ার পর রিটার্নিং কার্যালয়ের কাছে সাংবাদিকদের বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ধানের শীষের প্রতি গণজোয়ার তৈরি হচ্ছে। ধানের শীষ জয়লাভ করবে।
তিনি বলেন, বিএনপি জিয়ার আদর্শে গড়া দল। এখন এই দলের নেতৃত্বে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি তাকে (সাখাওয়াত) এই প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে বলেছেন। এটি শুধু তার নয়, এটি দলের নির্বাচন। ধানের শীষের নির্বাচন।
তিনি আরও বলেন, আমি যেখানেই যাচ্ছি জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ চেয়েছে। আমরা অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি জিতবো, ধানের শীষ জিতবে।
তবে এদিন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের অনুসারী কোনো নেতাকর্মী ছিলেন না।
এমনকি ওই সময় মহানগর আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকেও দেখা যায়নি। তবে শামীম ওসমানের অনুসারীরা আইভীর পাশে না থাকলেও প্রতীক বরাদ্দে তার পাশে ছিল হাজার জনতা।
প্রতীক বরাদ্দের দিনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখে প্রশ্ন উঠেছে আইভীর পক্ষে শামীম ওসমানসহ তার অনুসারী নেতাকর্মী কাজ করবেন কিনা?
ইতোমধ্যে ডা. আইভী নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। নৌকার প্রতীক নিয়ে মাসদাইর সিটি কর্পোরেশন কবরস্থানে গিয়ে তার বাবা চুনকা ও শামীম ওসমানের বাবা সামসুজ্জোহার কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি বন্দরের নবীগঞ্জ দরগাহ যান এবং সিদ্ধিরগঞ্জের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শহরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অবস্থান করেন।
নাসিক নির্বাচনে সোমবার প্রতীক বরাদ্দের দিন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ কোর্টের সাবেক পিপি আসাদুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা রাশেদুর রহমান রাশু, জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির প্রমুখ।
এবারই প্রথম স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন হচ্ছে দলীয় প্রতীকে। সাতজন প্রার্থীর মধ্যে থেকে আগামী ২২ ডিসেম্বর ভোটাররা তাদের নতুন মেয়র বেছে নেবেন।
নারায়ণগঞ্জের ভোটে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৫৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৭ জনের প্রার্থিতা বৈধতা পেয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন,মেয়র পদে সাতজন, সাধারণ সদস্য পদে ১৫৬ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৩৮ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। আমরা প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে প্রচার-প্রচারণা চালানোর জন্য অনুরোধ করছি।
মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/পিআর