৪৬ বছর পরও রয়ে গেছে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’


প্রকাশিত: ০২:০১ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৬

স্বাধীন হওয়ার ৪৬ বছর পরও ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ কথাটি বাংলার শত বছরের পুরনো এক ইন্দ্রার নাম ফলকে রয়ে গেছে। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে আজও বাংলার মাটিতে রয়ে গেছে পাকিস্তানের এই স্লোগান। দ্রুত ইন্দ্রাটি সংস্কার করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার প্রতীক চাঁদ তারা অঙ্কিত ফলকে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ মালিক ভোলা মামুদ। ১৩১৩ চৈত্র মাস। মেরামত ১৩৫৭। গ্রামবাসী ও ইউনিয়ন বোর্ড। মো. সৈয়দ উদ্দিন সরকার, পিইউবি লেখা একটি ১১০ বছর আগে তৈরি করা কুয়ার গায়ে। এই কুয়াকে ঘিরে ইন্দ্রার পাড় নামে পরিচিত কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের আজোয়াটারি গ্রাম।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গফুর (৮৫) ও নজরুল ইসলাম (৮০) জানান, এই এলাকায় ব্রিটিশ আমলে পানির সংকট ছিল। আর সেই সংকট দূর করার জন্য মৃত ভোলা মামুদ নিজ উদ্যোগে অর্ধশতক জায়গায় একটি কুয়া তৈরি করেন। সেই থেকে আজ অবধি এই কুয়ার পানি শুকায়নি। কুয়ার পানি দিয়ে এখানকার মানুষ খাবার, গোসলসহ সাংসারিক কাজে ব্যবহার করছে।

বাংলা ১৩৫৭ সনে এই কুয়াটি পাকা করা হয়। প্রায় ৭-৮ বছর আগে কুয়াটির চারপাশ পাকা করা হলেও ফলকটি পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে বাংলাদেশ স্বাধীনতার এতো বছর পরও এখানে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ কথাটি থেকে গেছে।

গৃহিণী ছকিনা বেগম বলেন, ‘হামার বাপ-দাদার আমল থেকে দেখে আসছি এই কুয়ার পানি খাওয়া থেকে শুরু করে সব কাজেই ব্যবহার হচ্ছে। এলা বাড়ি-বাড়ি কল হওয়াতে কুয়ার পানি আনতে আর আগের মতো ভিড় করতে দেখা না।’

Kurigram

কুয়ার পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা শাহাদত হোসেন জানান, ‘ভোলা মামুদ যুদ্ধ চলাকালে এই এলাকা থেকে তার পরিবার নিয়ে ভারত যান। এরপর আমরা শুনতে পাই ভোলা মামুদ মারা গেছেন। এরপর তাদের আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ শব্দটি এখনও আমাদের পবিত্র মাটিতে থাকায় খুব কষ্ট লাগে। বিষয়টি সবাই জানার পরেও কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে এলাকাবাসীর সরকারের কাছে অনুরোধ, এই শত বছরের পুরনো ইন্দ্রাটি সংস্কার করে পাকিস্তান জিন্দাবাদ শব্দটি তুলে ‘জয় বাংল’ স্লোগান ব্যবহার করা হোক।

এ বিষয়ে কাশিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন জানান, বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়নি। এখন জানলাম। খোঁজ-খবর নিয়ে শত বছরের পুরনো এই কুয়া সংস্কার করে পরিষদের পক্ষ থেকে নামকরণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

ফুলবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবেন্দ্র নাথ উরাও বলেন, এমন ঘটনা আমার জানা নেই। কেউ কখনও জানায়নি। তবে এখন জানলাম দ্রুত বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

নাজমুল হোসেন/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।