শিম চাষে আব্দুল জলিলের ভাগ্যবদল


প্রকাশিত: ০৫:৫৬ এএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৬

ভূমিহীন দিনমজুর শিম চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন। ইতিমধ্যে প্রাথমিক ধাক্কা সামলিয়ে তিনি বর্গা জমিতে শিম চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন। তার এ সাফল্যে গ্রামের মানুষও খুশি। চলতি মৌসুমে প্রায় ২ লাখ টাকার শিম বিক্রি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার পাঠক গ্রামে গিয়ে কথা হয় চাষী আব্দুল জলিলের সঙ্গে। স্ত্রী, ছেলে ও নাতি-নাতনি নিয়ে তার সাত সদস্যের সংসার। জীবনের বেশিরভাগ সময় দিনমজুরি করে কাটাতে হয়েছে তাকে। বাড়িভিটাসহ সাত শতক জমিতে সবাই মিলে বসবাস করেন।

চাষ করার মতো নিজস্ব কোনো জমি নেই। বিভিন্ন অঞ্চলে দিনমজুরি করেই জীবনটা পার হচ্ছিল। এর মধ্যে বগুড়ায় কাজ করতে গিয়ে কথা হয় কয়েকজন শিম চাষির সঙ্গে। তাদের সাফল্যের কথা শুনে আব্দুল জলিল মনে মনে স্থির করেন শিম চাষ করার। অল্প জমিতে শিম চাষ করে অনেকের ভাগ্য বদলেছে।

গ্রামে গিয়ে তিনিও পেশা বদলিয়ে শিম চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন। যেই ভাবা, সেই কাজ। প্রতিবেশী একজন গৃহস্থের কাছে অনুরোধ করে ১৫ শতক জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন শিম চাষ। এতে সব মিলিয়ে খরচ হয় পাঁচ হাজার টাকা। আয় করেন প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। প্রথম বছরেই লাভের মুখ দেখে তার উৎসাহ বেড়ে যায়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দিনমজুরি ছেড়ে পরিচিতি পান শিম চাষি হিসেবে। এতে নিজেকে গর্বিত মনে করেন আব্দুল জলিল।

তার ভাষায়, যে কোনো সৃষ্টির মধ্যে আলাদা আনন্দ রয়েছে। মা যেমন তার সন্তানকে ভূমিষ্ট করে আনন্দ লাভ করেন। তেমনি শিমের কুঁড়ি ফোটার পর আব্দুল জলিলের মন ভরে যায়। এমন অপার আনন্দ! যা ভাষায় ব্যক্ত করার মতো নয়।

চলতি মৌসুমে ৩৫ শতক বর্গা জমিতে শিম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন তিনি। এজন্য তাকে জমির মালিককে পাঁচ মণ ধান দিতে হবে। এতেও পিছিয়ে যাননি তিনি। অনেক যত্ন করছেন জমির পেছনে। বাড়িতে গোবর সার তৈরি করেছেন। ট্রিলার দিয়ে জমি চাষ করেছেন। বারি জাতের বীজক্রয়সহ খরচ পড়েছে প্রায় ৩ হাজার টাকা। এছাড়াও বীজ বপণ, পরিচর্চা ও স্প্রে’র কাজ ও জাংলা দিতে খরচ হয়েছে প্রায় সাত হাজার টাকা। তার আশা এই মৌসুমে প্রায় দুই লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন।  

আব্দুল জলিল অভিযোগ করেন, এ পর্যন্ত উপজেলা কৃষি অফিস তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। যা তিনি করেছেন চাষিদের কাছে শুনে এবং নিজের ছোট ছোট অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে। সরকারি কোনো সহযোগিতা পেলে তিনি আরও ভাল কিছু করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ ব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা কৃষি অফিসার ষষ্টি চন্দ্র রায় বলেন, আব্দুল জলিলের শিমচাষ সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি। তিনি কৃষি অফিসের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ করেননি। তিনি যোগাযোগ করলে আমরা তার প্রদর্শনী ক্ষেতের জন্য সব ধরণের সহযোগিতা করবো।

নাজমুল হোসাইন/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।