মেহেরপুরের একমাত্র খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউল হোসেন


প্রকাশিত: ০৫:৪৩ এএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬

বীর প্রতীক শহীদ ওয়ালিউল হোসেনের নাম মেহেরপুর জেলার অনেকেই হয়তো জানে না। তিনি জেলার একমাত্র ব্যক্তি যিনি মরনত্তোর বীর প্রতীক পদকে ভূষিত হয়েছেন।

১৯৩৯ সালের ২ আগস্ট মুজিবনগর উপজেলার মনোখালী গ্রামের কানাই শেখের পরিবারে জন্ম ওয়ালিউল হোসেনের। চার ভাই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। যুবক বয়সেই তিনি যোগ দেন মুজাহিদ বাহিনীতে।

শহীদ ওয়ালিউল হোসেনের সহযোদ্ধা জসিম উদ্দীন জানান, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ ৮নং সেক্টরে যুদ্ধে যোগ দেন তিনি। এ সেক্টরের অধীনে তৎকালীন এসডিও তৌফক-ই-এলাহী চৌধুরী ও কোম্পানি কমান্ডার লে. খন্দকার নুরুন্নবীর নেতৃত্বে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর, সাতক্ষীরা ও ফরিদপুর জেলার অংশ বিশেষ বিভিন্ন স্থানে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন তিনি।

১১ নভেম্বর রাতে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার ব্যোংগাড়ির একটি মাঠে বাংকার অবস্থান নেন মুক্তিযোদ্ধারা। ১৩ তারিখ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার কথা ছিল তাদের। কিন্তু ১২ নভেম্বর রাত ৩টার দিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সেখানে আক্রমণ করে। শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ।

পাশের একটি বাংকারে অবস্থান করছিলেন ওয়ালিউল হোসেন। এক পর্যায়ে সেখান থেকে একটি চিৎকার ভেসে আসে। তারা সেখানে গিয়ে দেখেন চোঁখে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছেন তিনি। প্রচণ্ড গোলাগুলির কারণে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও তাকে সরিয়ে আনতে ব্যর্থ হন সহযোদ্ধারা।

অবশেষে রাতের কোনো এক সময় মরদেহটি সরিয়ে পাশের একটি পানের বরজে লুকিয়ে রাখা হয়। যুদ্ধ শেষে সেখানেই ওয়ালিউল হোসেনের মরদেহটি দাফন করা হয়।

শহীদ হবার সময় তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর। অভাবের সংসারে হাল ধরেন স্ত্রী জাবেদা খাতুন। অনেক কষ্টে মেয়েদের বড় করেন।

১৯৮০ সালে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান মেজ মেয়ে রেবেকা খাতুন। এখন দুই মেয়ে জামায় ও নাতি-নাতনী নিয়ে ভালই দিন কাটছে জাবেদা খাতুনের। ২০০৪ সালের ১১ মার্চ বীর প্রতিকে ভূষিত হয়েছেন শহীদ মুজাহিদ ওয়ালিউল হোসেন। স্বামী দেশ স্বাধীন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন এতেই গর্বে বুক ভরে যায় স্ত্রী জাবেদার।

স্ত্রী জাবেদা খাতুন জানান, স্বামী দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। এতেই গর্ব তাদের। পেয়েছেন সরকারি অনেক সহযোগিতা। না পাওয়ার কোনো আক্ষেপ নেই তাদের মাঝে। তবে স্বামীর কবরটি পড়ে আছে সেই ব্যাংগাড়ির মাঠে। কবরটি স্থানান্তর করে, নিজ এলাকায় স্থাপনের দাবি তার।

জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ জানান, পরিবারটির খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এছাড়াও তার বিরত্বগাঁথা ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুল ধরতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে জানানোর মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।