জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাংবাদিকদের গণ জিডি
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে গণ-জিডি করেছেন খাগড়াছড়িতে কর্মরত ৩৫ জন পেশাজীবী সাংবাদিক।
মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি সদর থানায় তারা জিডি করেছেন। এ ছাড়া মারধর ও চাঁদা দাবি করেছে মর্মে সাদা কাগজে অঙ্গীকার নেয়ার অভিযোগে প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক নীরব চৌধুরী পৃথক আরেকটি জিডি করেছেন।
এর আগে সাংবাদিক নীরব চৌধুরীকে মারধরের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত জেলা শহরের শাপলা চত্বরে মৌন মানববন্ধন করেন জেলার পেশাজীবী সাংবাদিকরা।
মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকরা মিছিল নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার মজিদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
জিডিতে অভিযোগ করা হয়, গত রোববার প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক নীরব চৌধুরী জেলা সদরের রাজ্যমনি পাড়া চেঙ্গীনদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গেলে খাগড়াছড়ির পৌর মেয়র মো. রফিকুল আলমের লোকজন বাধা দেয় এবং তাকে ধরে পৌরসভা কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
পরে খাগড়াছড়ি পৌরসভার সচিবের অফিস কক্ষে নিয়ে নীরবকে বেদম মারধর করে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়।
এক পর্যায়ে মেয়র মো. রফিকুল আলম চাঁদাদাবি করেছে মর্মে সাদা কাগজে মুচলেখা নিয়ে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি জিতেন বড়ুয়া ও দৈনিক প্রথম আলোর খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জয়ন্তি দেওয়ানের কাছে তুলে দেন।
অন্যদিকে সাংবাদিক নীরব চৌধুরীকে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন চলাকালে বালু ব্যবসায়ী দিদারুল আলমের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন শাপলা চত্বরে মহড়া দেয়। এ সময় তারা সাংবাদিকদের গালমন্দ ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে।
এদিকে সাংবাদিক নীরব চৌধুরীর উপর হামলাসহ অন্যান্য সাংবাদিকদের হুমকি প্রদর্শনের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।
পাশাপাশি সাবেক সাংসদ ও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভুইয়া, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে), খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে) সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেন।
মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এএম