গাইবান্ধায় ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত


প্রকাশিত: ০২:৩৭ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৬

গাইবান্ধায় প্রশাসনের আশ্বাসে সকল রুটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে জেলা মোটর-মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এ সিদ্ধান্ত নেয়।

বুধবার ভোর থেকে শুরু হওয়া পরিবহন ধর্মঘটের কারণে জেলা সকল রুটে দুরপাল্লার বাস, অভ্যন্তরীণ রুটের বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও পিকআপ চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে যাত্রী সাধারণ ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভাগে পড়েন।

জেলা মোটর মালিক সমিতির দফতর সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক বাবু এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ২৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী ভিডিও কনফারেন্স, ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন ও ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নিরর্বাচনের কারণে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করা হয়।

তিনি আরও জানান, গত ১৩ ডিসম্বের চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোক্তাদুর রহমান মিঠুর উপর হামলা ও শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে ১৩ ডিসম্বের সন্ধ্যায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় জেলা মোটর-মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

১৪ ডিসম্বের দিনব্যাপী পরিবহন ধর্মঘট পালিত হয়। কিন্তু প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৭ ডিসেম্বর ভোর পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত ছিল। তারপর আবারও মঙ্গলবার দুপুরে নেয়া সিদ্ধান্তে বুধবার ভোর থেকে দিনব্যাপী ধর্মঘট পালিত হয়।

তবে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার না করা হলে জেলা মোটর-মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন বলেও জানান তিনি।

গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান জানান, আসামিদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে ধর্মঘট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা মোটর-মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বুধবার রাত ৮টার পর থেকে দুরপাল্লার বাসসহ সকল প্রকার যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৩ ডিসেম্বর বিকেলে গাইবান্ধা চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাধারণ সভায় সদস্যদের কথা বলতে না দেওয়ার জের ধরে কয়েক দফায় সংঘর্ষ, অফিস ও কাউন্টার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এতে উভয়পক্ষের ৮ জন আহত হন। এ ঘটনার ঘটনায় ১৩ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী পিয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে সদর থানায় ২৩ জন নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৪৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় এ পর্যন্ত পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


জিল্লুর রহমান পলাশ/এএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।