চুয়াডাঙ্গায় কবরস্থানের রাস্তা নির্মাণ নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৬

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ১২:৫২ এএম, ১০ মার্চ ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কবরস্থানের রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর আড়াইশো বেড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) ইফতারের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জীবননগর থানার মাধবখালী গ্রামের পশ্চিমপাড়া ও খাঁপাড়া এলাকার লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর আগে বিবাদের কারণে খাঁপাড়ার মসজিদ ছেড়ে পশ্চিমপাড়ায় নতুন একটি মসজিদ নির্মাণ করেন পাড়ার বাসিন্দারা। তবে তাদের কবরস্থান একটা।

সম্প্রতি কবরস্থানে যাওয়ার রাস্তা তৈরি জন্য খাঁপাড়া মসজিদের সীমানা পাচির ভাঙা হয়। বিষয়টি নিয়ে সোমবার ইফতারের পর দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা উত্তেজনায় রূপ নিলে উভয় পক্ষের লোকজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এসময় দুই পক্ষের ছয়জন আহত হয়। পরে সংঘর্ষে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয়রা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এদিকে আহতদের মধ্যে মো. খানজাহান আলীর (৪৫) শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর আড়াইশো বেড হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক।

অন্য আহতদের মধ্যে রয়েছেন- লিখন (১৮), আশরাফুল (৪২), রোজিনা (৩৮), তৃষ্ণা (৩৩) ও দুর্জয় (২৪)। আহতরা সবাই জীবননগর উপজেলার মাধবখালী গ্রামের বাসিন্দা।

আহত লিখনের দাবি, মণ্ডলপাড়ার নুর ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম এবং আতিয়ারের ছেলে আশিক তাদের মারধর করেন।

অন্যদিকে আহত রোজিনা অভিযোগ করে বলেন, কবরস্থানের গেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে খানপাড়ার আকুল ও ইসরাফিল তাদের ওপর হামলা চালায়।

এ বিষয়ে মাধবখালী মণ্ডলপাড়ার বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় ছয় বছর ধরে মাধবখালী জামে মসজিদের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল ইসলাম। গত আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিন মাস আগে তিনি সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই গ্রামে আপাতত পুলিশি টহল রাখা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

হুসাইন মালিক/এমএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।