একযুগ ধরে বন্ধ গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের জেনারেটর


প্রকাশিত: ০৪:৫৮ এএম, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৬

জ্বালানি তেলের বরাদ্দ না থাকায় ১০০ শয্য বিশিষ্ট গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের জেনারেটর একযুগ ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে জেনারেটর সুবিধা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে জেনারেটর বন্ধ থাকার কারণে ব্যাটারিসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, বেসরকারিভাবে পাওয়া সদর হাসপাতালে ছোট দুটি জেনারেটর থাকলেও তা পুরো হাসপাতাল এলাকার বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পারছে না। বিদ্যুৎ না থাকলে পুরো হাসপাতাল এলাকাটি ভূতুরে অবস্থার সৃষ্টি হয়।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের জন্য ২০০৩ সালে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ডিজেল ইঞ্জিনচালিত ৪০ কেভির একটি বিশাল আকৃতির জেনারেটর বরাদ্দ দেয়। এতে ব্যয় হয় সাত লাখ টাকা। এছাড়া জেনারেটর রাখার জন্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। বৈদ্যুতিক সামগ্রীসহ মোট ব্যয় হয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

৪০ কেভির (কিলো ভোল্ট) জেনারেটর থেকে ৩২ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এটি চালু থাকলে অপারেশন, এক্সরে মেশিন ও শীতাতপ যন্ত্র চালানো ছাড়াও গোটা হাসপাতাল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহীনুল ইসলাম মণ্ডল বলেন,  জেনারেটর স্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের সময় হাসপাতালের সকল শাখায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। যাতে জরুরি অপারেশন কাজে বিঘ্ন না ঘটে। কিন্তু সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ না থাকায় এটি চালানো যাচ্ছে না। এমনকি জেনারেটর চালানোর জন্য লোকবলও নেই। ফলে জেনারেটরটি রোগীদের কোনো কাজে আসছে না।

Gaibandha

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বেসরকারিভাবে পাওয়া ছোট দুইটি জেনারেটর দিয়ে কোনো মতো জরুরি বিভাগ ও হাসপাতালের প্রধান ফটকে বাতি জ্বালানো হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে হাসপাতালের অন্য বিভাগ, রোগীদের ওয়ার্ডসহ পুরো হাসপাতাল এলাকা অন্ধকার থাকে।

গাইবান্ধা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুল আলম বলেন, জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ব্যাটারিসহ অন্যান্য মূল্যবান যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে যাচ্ছে। তাই জেনারেটরটি চালুর ব্যবস্থা না করা হলে যে কোনো সময় একেবারে অকেজো হয়ে পড়বে।  

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, জেনারেটরটি চালু রাখতে প্রতিঘণ্টায় ১৩ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তেল কেনার কোনো তহবিল নেই। এমনকি এটি চালানোর জন্য লোকবলও নেই। তাছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জেনারেটর দেয়া হলেও জ্বালানি তেলের বরাদ্দ দেয়া হয়নি। তবে ডিজেলের বরাদ্দ চেয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। ফলে জেনারেটরটি বন্ধ হয়ে আছে।

 আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।