পঞ্চগড়ে ৫০ স্বেচ্ছাসেবী নারীকে পুরস্কার প্রদান


প্রকাশিত: ০২:৩২ পিএম, ১৫ মার্চ ২০১৫

নবজাতক ও মাতৃ মৃত্যুহার রোধে অগ্রগতি ত্বরান্বিতকরণে অবদানের জন্য পঞ্চগড়ের ৫০ নারী স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এবং ব্যক্তি হিসেবে ডা. মনসুর আলম, ডা. আরিফুর রহমানকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

রোববার জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মা ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা (এমএনএইচ) কমিটির উদ্যোগে এক সভায় এসব নারী স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবীদের পুরস্কৃত করা হয়।

পঞ্চগড়-১ আসনের সাংসদ নাজমুল হক প্রধান তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মো.আহাদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামছুল আজম, জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট, দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাসানাৎ জামান চৌধুরী, ইউনিসেফের ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের প্রতিনিধি মো. শামসুজ্জামান, ইকো-সোস্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) মো. শফিকুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

এর আগে পঞ্চগড় বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মনসুর আলম মা ও শিশু মৃত্যু রোধে এমএনএইচ প্রকল্পের বিভিন্ন সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন।

প্রথম পুরস্কার পেয়ে বোদা উপজেলার মানিকপীর এলাকার স্বাস্থ্যস্বেচ্ছাসেবী মোছা. সামছুন নাহার বলেন,‘সরকার বিনা খরচে আমাকে শিশুজন্ম ও প্রসব বিষয়ক ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলেছে। এটা আমাদের বড় পাওয়া। তার ওপর আজ স্বীকৃতি পেয়ে ভালো লাগছে’।

পঞ্চগড় এমএনএইচ কমিটির সভাপতি সাংসদ নাজমুল হক প্রধান বলেন, স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবীরা নবজাতক ও মৃত্যুরোধে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন বলে জেলার মা ও শিশু মৃত্যুহার অনেক কমে এসেছে। তাদের পুরস্কৃত করতে পেরে গর্ববোধ করছি।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ে পরীক্ষমূলকভাবে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের ৩টি সংগঠনের আর্থিক সহযোগিতায় মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্প (এমএনএইচ) হাতে নেয়। গ্রাম পর্যায়ে লোকবল সংকটের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক সন্তান প্রসব যখন কার্যকর হচ্ছিল না তখন গ্রাম পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবিকাদের শিশুজন্ম ও প্রসবকালীন সেবা বিষয়ে দক্ষ করে তুলে ক্লিনিকের জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬০ জন স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবিকাকে পর্যায়ক্রমে শিশুজন্ম ও প্রসবকালীন সেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করে সিভিল সার্জন কার্যালয়। প্রশিক্ষণ শেষে তারা প্রতিষ্ঠানিক প্রসব নিশ্চিত করতে গর্ভবতীদের গর্ভ ও প্রসবকালীন বিপদচিহ্ন সম্পর্কে  জানানো এবং জন্ম পরিকল্পনা সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করেন। তাদের অবদানে জেলায় শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। যেখানে জাতীয় পর্যায়ে মাতৃমৃত্যু হার লাখে ১৭০ আর পঞ্চগড় জেলায় এই হার লাখে ১১৪ জন। অন্যদিকে শিশু মৃত্যুহার জাতীয় পর্যায়ে যখন লাখে ৩২ সেখানে পঞ্চগড় জেলায় এই হার কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।

এমএএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।