বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ দাবিদার ব্যক্তির মৃত্যু


প্রকাশিত: ০৩:৩০ পিএম, ০৯ জানুয়ারি ২০১৭

গাজীপুরে বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ দাবিদার ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ১২৯ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন ( ইন্নালিল্লাহি... রাজিউন)। নাজিম উদ্দিন খান গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চিনাশুখানিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

এমন এক সময় এই প্রবীণের মৃত্যু হয়েছে যখন পৃথিবীর সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জরিপ চলছিল।

তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মসনদ অনুসারে বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার সকালে নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

Nazm-Uddin

নাজিম উদ্দিন খানের ভাতিজা প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক (অবসরপ্রাপ্ত) মো. রশিদ খান জানান, বিকেল ৫টায় চিনাশুখানিয়ার দীঘিরচালা স্কুল মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ সমাহিত করা হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের চিনাশুখানিয়া গ্রামে ১৮৮৮ সালের ৮ মার্চ (জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী) এই প্রবীণের জন্ম হয়েছিল। বাবা আজমাইল খান এবং মা ফুলজান বিবির বড় ছেলে ছিলেন মো. নাজিম উদ্দিন খান।

যদিও এই প্রবীণ মৃত্যুর আগে দাবি করেছিলেন ২০১৬ সালে ১৫০ বছরে পা রেখেছেন তিনি। সেই হিসাবে তার জন্ম হওয়ার কথা ১৮৬৫ সালের দিকে। তার জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রে ৮ মার্চ ১৮৮৮ জন্ম সাল হিসেবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

নাজিম উদ্দিন খানের ছয় সন্তানের মধ্যে মাত্র তিনজন জীবিত। বাকিরা বয়সের ভারে অনেক আগেই পৃথিবী ছেড়েছেন। সৌভাগ্যবান এ প্রবীণ ২২ জন নাতি-নাতনি, নাতি-নাতনির ঘরে ১০৬ জন সন্তান এবং সন্তানদের ঘরে ১০৭ জন সন্তান এবং এর পরের প্রজন্ম সাত জনসহ মোট ২৪৮ জন বংশধরকে দেখে গেছেন।

এ প্রবীণের বয়স নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ ছিল না। বয়স নিয়ে মিডিয়ার বদৌলতে বিভিন্ন সময় তিনি দেশবাসীর কাছে আলোচিত হয়েছেন।

সরকারের কাছে নাজিম উদ্দিন খানের স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবি ছিল, তার বয়স সত্যিকারে কত, সরকারি তত্ত্বাবধানে তা যাচাই করা।

Nazim-Uddin-Khan

তিনি ও তার স্বজনরা মনে করতেন, জীবিত মানুষের মধ্যে তিনিই বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ। বর্তমানে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণতম ব্যক্তির স্থানটি দখল করে আছেন পোল্যান্ডের ইসরায়েল ক্রিস্টাল। তার বয়স বর্তমানে প্রায় ১১৪ বছর।

এর আগে খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ তার বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, নাজিম উদ্দিন খানের বয়স সত্যিই অনেক। প্রথমে যদিও অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল। পরে সব কিছু দেখে-শুনে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসতে বলা হয়।

কিছুদিন পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে তখন নির্দিষ্ট মেশিন নষ্ট থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে আবারও পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সে প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই এ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলেন নাজিম উদ্দিন খান।

এআরএ/এএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।