নাটোরে বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত


প্রকাশিত: ১০:৩৩ এএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৭

নাটোরে সকাল থেকেই টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে। বইছে ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়া। এতে আকস্মিক শীতের তীব্রতা বেড়ে যায়। ফলে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পৌষের শেষের দিকে এসে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

মঙ্গলবার ভোর থেকে আকাশ থেকে ঝরছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। ফলে শীত বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। সকাল থেকে নাটোরের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। পরিমাণে কম হলেও বৃষ্টির কারণে বিকেল পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।

এতে হঠাৎ বেড়ে গেছে শীতের তীব্রতা, বইছে হিমেল হাওয়াও। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন অফিসগামী এবং খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বেলা ১২টা পর্যন্ত ১ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আর এদিন সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত রোববার মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, পৌষ-মাঘের মাঝামাঝিতে স্বাভাবিক বৃষ্টি হয়। এ বৃষ্টিও স্বাভাবিক। বৃষ্টিটা আরও কয়েকদিন আগে হওয়ার কথা ছিল। গত বছর থেকে এ বৃষ্টি একটু পিছিয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে ঠাণ্ডাও কিছুটা বাড়বে। এটাই স্বাভাবিক।

মঙ্গলবার সকালে নাটোরের মাদরাসা মোড়ে কথা হয় শুভ, বাপ্পি, আসাদুলসহ কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে। তারা জানান, দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন তারা। কিন্তু তীব্র শীতের কারণে কাজ না থাকায় হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। ফলে আজ বাড়িতে চুলা জ্বলবে কি করে তা নিয়ে চিন্তায় সময় পার করছেন তারা।

কানাইখালিতে নাটোর প্রেসক্লাবের সামনে অটোরিকশাচালক হযরত আলী বলেন, খুব সকালে যখন অটো নিয়ে বের হই, তখন কুয়াশার মধ্যে ফোটা ফোটা পানি পড়ছিল। ভেবেছি, শিশির পড়ছে। খানিক পর যখন বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ে, তখন বুঝতে পারি, এটা শিশিরবিন্দু নয়, গা হিম করা পৌষের বৃষ্টি। এখন পেটের দায়ে বৃষ্টিতে ভিজেই রিকশা চালাচ্ছি।

রেজাউল করিম রেজা/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।