বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরে পণ্য আমদানিতে স্থবিরতা


প্রকাশিত: ০৬:২৭ এএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৭

কুড়িগ্রামের বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরে ১০টি পণ্য আমদানির অনুমতি থাকলেও বিগত চার বছরে দুইটির বেশি পণ্য আমদানি করা যাচ্ছে না। ভারতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে স্থবিরতা নেমে এসেছে বন্দরটিতে। ফলে সম্ভাবনার কপাট এখন আটকে পড়েছে। মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে আগ্রহী ব্যবসায়ীরা।

এতে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, অপরদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর প্রায় ৪৪ একর জায়গার ওপর যাত্রা শুরু করে দেশের ১৮তম স্থলবন্দর বঙ্গসোনাহাট। এটি কুড়িগ্রাম জেলা থেকে ৫৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বদিকে ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। প্রাথমিকভাবে পাথর, কয়লা, তাজা ফল, ভুট্টা, গম, চাল, ডাল, রসুন, আদা ও পেঁয়াজ  এ ১০টি পণ্য আমদানির অনুমোদন পায় স্থলবন্দরটি। এতে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখে কুড়িগ্রামবাসী।

কিন্তু বন্দর শুরুর চার বছর পার হলেও শুধু পাথর ও কয়লা ছাড়া এ পথে কিছুই আসছে না। একই সঙ্গে সব ধরণের পণ্য রফতানির সুযোগ থাকলেও ভারতীয় রাজস্ববোর্ডের কারণে এখনও কিছুই হয়নি।

আমদানীকারক হামিদুল ইসলাম ও মাইদুল ইসলাম জানান, লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারি স্থলবন্দর হয়ে ৪০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আনা হচ্ছে ভারতীয় পণ্য। অথচ বঙ্গসোনাহাট বন্দর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টারখ্যাত রাজ্যগুলো থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার পথ পরিবহন করে পণ্য আনা যাবে। পরিবহন খরচ বাদে লাভবান হবে ব্যবসায়ীরা। শ্রমিকরা পাবে কাজের সুযোগ।

বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সরকার রকীব আহমেদ জুয়েল জানান, বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ চলছে। শুধু পাথর আমদানি করে লোকসানে পড়ে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। এই অবস্থা দূর করতে হলে বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরের উন্নয়নে দুই দেশের রাজস্ব বোর্ডের সমন্বয় এ বন্দরের বাকী আটটি পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশি পণ্য রফতানির সুযোগ দিতে হবে।

এ ব্যাপারে বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা শিকদার গোলাম সারোয়ার জানান, কুড়িগ্রামের উন্নয়নের চাকা বেগবান করতে হলে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূর করতে হবে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে।

আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।