মদন সরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্যাথলজি ও দন্ত ক্লিনিক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১০:১৫ এএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৭

দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনার মদন উপজেলার ৫০ শয্যা হাসপাতালের ভেতরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার যোগসাজশে অবৈধভাবে প্রাইভেট দুটি দন্ত ও একটি প্যাথলজি ক্লিনিক গড়ে তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালের ভেতরে জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিজীবী স্বামী- স্ত্রী এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী। তারা এ ক্লিনিকগুলোতে হাসপাতালের যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করছেন।   

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ফার্মাসিস্ট পরিতোষ গত ২০১৫ সালে মদন হাসপাতাল থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ হাসপাতালের প্রবেশ দ্বারেই পরিত্যক্ত ডাক্তার কোয়ার্টারে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে দন্ত ক্লিনিক স্থাপন করে জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।

এ ব্যাপারে ক্লিনিকের মালিক পরিতোষ জাগো নিউজকে জানান, মদন হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট পদে যোগদান করার পর ২০১২ সাল থেকে এই স্থানে  তিনি দন্ত ক্লিনিক চালু করেছেন। কোয়ার্টার ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় না বলে অবসর গ্রহণের পরেও তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরার্মশক্রমে ক্লিনিকটি চালু রেখেছেন।

অপরদিকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (দন্ত) মো. আতিকুর রহমান ২০১০ সালে মদন হাসপাতালে কাজে যোগদান করে জুনিয়র মেকানিক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী  আনোয়ারুল হক তালুকদারের নামে দ্বিতীয় শ্রেণির কোয়ার্টার বরাদ্দ নিয়ে বাসায় দন্ত ক্লিনিক স্থাপন করে জমজমাট ব্যবসা করছেন।

গত ২২ মে ২০১২ ইং তারিখে বিএসসি ইন টেকনোলজিস্ট হেলথ কোর্স করার জন্য তিনি ঢাকা মহাখালী চলে গেলেও মাসে ১০/১২ দিন মদনে এসে দন্ত ক্লিনিক চালু রাখছেন। এর মধ্যে তার স্ত্রী মৌসুমী খান রত্না মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ল্যাবরেটরি পদে নোয়াখালী থেকে মদন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগদান করেন। তিনি এসেই ওই বাসায় প্যাথলজি ক্লিনিক গড়ে তোলে ব্যবসা করছেন।

এ ব্যাপারে আতিকুর রহমান ও তার স্ত্রী মৌসুমী খান রত্না জাগো নিউজকে জানান, চাকরির অবসরে সময় কাটানোর জন্য এলাকাবাসীর স্বার্থে আমরা এ ক্লিনিক চালু রেখেছি। তবে কোয়ার্টার বরাদ্দ ও হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিষয়টি তারা এড়িয়ে যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল কদ্দুছ হাসপাতালের ভেতরে প্রাইভেট দুটি দন্ত ও একটি প্যাথলজি ক্লিনিকের সত্যতা স্বীকার করে জাগো নিউজকে বলেন, চাকরির অবসরে বাসায় বসে প্রাইভেট প্রাকটিস করলে আমার কিছু বলার নেই, তবে প্রয়োজন বোধে এগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, কর্মচারীরা মদনে থাক, তা আপনারা চান না। আমি ইচ্ছা করলে মদনের সবকটি প্রাইভেট প্যাথলজি ক্লিনিক বন্ধ করে দিতে পারি।

স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ হারেছ জাগো নিউজকে বলেন, হাসপাতালের কোয়ার্টারে বসবাসরত লোকজন নিয়ম মানছে না। ভেতরে দুটি দন্ত ক্লিনিক আমার চোখে পড়েছে। তবে আমি জানতাম এগুলো সরকারি।  এ  ব্যাপারে স্বাস্থ্য কমিটির  সভায় আলোচনা করা হবে।

সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. আব্দুল গণি জাগো নিউজকে বলেন, আমি নতুন এসেছি। খবর নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।

কামাল হোসাইন/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।