চরাঞ্চলে মরিচের বাম্পার ফলন


প্রকাশিত: ০৩:০১ এএম, ২১ জানুয়ারি ২০১৭

‘বাহে মোর জমিত মরিচ মেলা ধরছে। এবার মরিচ বেচায়া ভাল লাভ করচং।’ একমূখ হাসি নিয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করলেন মরিচ চাষি আজিজার। মরিচের বাম্পার ফলন হওয়ায় এমন হাসি দুধকুমার, তিস্তা, ধরলা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের চর অঞ্চলে মরিচ চাষিদের মুখে।

আবহাওয়া অনুকূল থাকায় একই জমিতে মরিচের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া চাষ করে লাভের মূখ দেখছেন চাষিরা।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার ৯ উপজেলার মরিচ আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ হাজার ৪২০ হেক্টর। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচ চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ২২৪ মেট্রিক টন। কিন্তু প্রতি হেক্টরে প্রায় সোয়া দুই মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদিত হয়েছে।

Kurigram
এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৯ হেক্টর, উলিপুরে ১২৫ হেক্টর, চিলমারীতে ২৩৫ হেক্টর, রৌমারীতে ২১৫ হেক্টর, রাজিবপুরে ৪০ হেক্টর, ভূরুঙ্গামারীতে ২২৫ হেক্টর, নাগেশ্বরীতে ১৭০ হেক্টর, ফুলবাড়িতে ১৩৫ হেক্টর এবং রাজারহাটে ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে।

চরাঞ্চলে দেশি ও হাইব্রিড জাতের মরিচ আবাদে কৃষকেরা লাভবান হয়েছে। বন্যার ক্ষতি কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে তাদের।

সরেজমিনে কচাকাটা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, লোকজন জমি থেকে মরিচ তুলছেন।

চাষি মহিবুল ও আজিজার রহমান জানান, গত বছরের চেয়ে এবারে মরিচের ফলন হয়েছে দ্বিগুন। তিন দফা একই গাছ থেকে মরিচ সংগ্রহ করা যাবে। দাম কিছুটা কম হলেও ফলন ভালো হওয়ায় লাভ পাচ্ছেন তারা। তারপরও খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘা জমিতে ১০-১২ হাজার টাকা লাভ হবে তাদের।

Kurigram
এছাড়াও একই জমিতে অন্য ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করে বাড়তি অর্থ পাচ্ছেন তারা। বন্যা পরবর্তী ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছেন তারা। তাদের এখন মরিচের ঝালে মূখে হাসি ফুটেছে। স্থানীয় জাতের এসব মরিচের স্বাদ ও ঝাঁল বেশি থাকায় কদর রয়েছে দেশজুড়ে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে কুড়িগ্রামের মরিচ।

বন্যা পরবর্তী আগাম মরিচ চাষ এবং পরিচর্যা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল এসব চরের কৃষকদের। প্রতিনিয়ত তদারকী এবং সঠিক সময়ে পরিমাণ মতো সার, ওষুধ প্রয়োগ করায় ভাল উৎপাদন হয়েছে বলে মনে করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মকবুল হোসেন।

এখন মরিচ সংগ্রহ ও বিক্রির সময় তাই পরিবারের ছোট-বড় সকলে মিলে কাজ করছে মরিচ ক্ষেতে। ব্যস্ত সময় পার করছে চরাঞ্চলের কৃষক-কৃষাণীরা।

নাজমুল হোসেন/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।