জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ


প্রকাশিত: ০১:১৪ পিএম, ৩১ জানুয়ারি ২০১৭

‘হাওর বাঁচলে বাঁচবো আমরা’ স্লোগান সামনে রেখে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

হাওর সংশ্লিষ্ট ৮৪টি গ্রামের মানুষকে সচেতন করতে নিজ উদ্যোগে প্রচারপত্র বিলি করে আসছেন হাওরপাড়ে বেড়ে ওঠা আহমদ কবির নামে এক প্রকৃতিপ্রেমী যুবক।

প্রচারপত্রে আগত পর্যটকদের জন্যও রয়েছে ইতিবাচক পরামর্শ। টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ আহমদ কবির তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি টাঙ্গুয়ার হাওর ইকো-টুরিস্ট গাইডের দায়িত্বপালন করে আসছেন।

ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, হাওরপাড়ের মানুষকে সচেতন করে তুলতে এমন কাজ প্রশংসনীয়। হাওরে পরিবেশ-প্রতিবেশ বজায় রাখতে যা যা করা দরকার প্রশাসনিকভাবে তাই করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আহমদ কবির তার প্রচারপত্রে উল্লেখ করেছেন, টাঙ্গুয়ার হাওর আমাদের তথা রাষ্ট্রীয় সম্পদ। মাছের অভয়াশ্রম আর পাখিদের অভয়ারণ্য এ হাওর দেশের ঐতিহ্য। পাশাপাশি পর্যটনপ্রেমিদের এক আকর্ষণীয় স্থান। তাই আসুন হাওরের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে রক্ষা করি। এক্ষেত্রে হাওরপাড়ের ৮৪টি গ্রামের মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিকভাবে কাজ করে যেতে হবে। কারণ হাওর বাঁচলে, বাঁচবো আমরা। হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের সকলের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

Kabir

অন্যদিকে প্রচারপত্রে ‘আগত পর্যটকগণকে হাওরে সংরক্ষিত এলাকায় বনের পশু-পাখিকে ঢিল মারা, যত্রতত্র ময়লা না ফেলা ইত্যাদি বিষয়ে সচেতন এবং পর্যটকদের সঙ্গে অসধাচরণ না করতে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাওরপাড়ের চিরিয়ারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা প্রবীণ ব্যক্তি উস্তার আলী, জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর মিয়া, সোহাগ মিয়াসহ অনেকেই বলেন, এ ধরনের প্রচারপত্রে এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আহমদ কবির বলেন, হাওরে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মানুষকে সচেতন করতেই আমার এ উদ্যোগ। হাওর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে ইতোপূর্বে কাজ করলেও এই প্রথম সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাওর ও গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রচারপত্র বিলি করে যাচ্ছি।
   
উল্লেখ্য, তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার বিস্তীর্ণ নয় হাজার ৭২৭ হেক্টরের এ হাওর (নয় কুড়ি কান্দা আর ছয় কুড়ি বিল) রক্ষণাবেক্ষণের কাজে জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংগঠন (আইইউসিএন)।

হাওর এলাকায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পাঁচটি ক্যাম্পে (রুপনগর, রামসিংহপুর, গোলাবাড়ি, মন্দিয়াতা ও টেকেরঘাট) ৪০ জন আনসার ও ১০ জন পুলিশ সদস্য এবং আন্তরপুর এলাকায় কমিউনিটি গার্ডের (১৭ সদস্য বিশিষ্ট) একটি ক্যাম্প সদস্যরা হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছেন।

এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।