পুলিশি প্রহরা ছাড়াই স্কুলে গেলেন শ্যামল কান্তি


প্রকাশিত: ১২:৫৯ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

নারায়ণগঞ্জে স্থানীয় এমপি কর্তৃক লাঞ্ছনার শিকার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত পুলিশি প্রহরা ছাড়াই চলাফেরা শুরু করেছেন। তবে পুলিশ তাকে নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।   

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান কর্তৃক লাঞ্ছিত হওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত পুলিশি প্রহরায় টানা ৮ মাস স্কুলে যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক চলাফেরা করেছেন। বৃহস্পতিবার পুলিশি প্রহরা ছাড়া একাই স্কুলে যান তিনি।

এদিকে বুধবার সকাল থেকে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ প্রহরা তুলে নেয়া হয়। এতে তিনি কিছুটা আতঙ্কিত। হঠাৎ করে তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ প্রহরা সরিয়ে নেয়া হলো কেন? এমন প্রশ্ন তার এবং তার পরিবারের মাঝে দেখা দিলেও পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের পর একটু ভরসা নিয়ে একা চলাফেরা করার সাহস করেন এই শিক্ষক।
 
শ্যামল কান্তি বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার আগেই নারায়ণগঞ্জ শহরের নগর খানপুরের মোকরবা সড়কের বাসা থেকে রিকশায় সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে নৌকা পার হয়ে বন্দরের কল্যান্দীতে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে যান। তিনি পুলিশের মৌখিক ভরসায় স্কুলে গেলেও মনের ভিতরে আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করছেন।  
 
তিনি জানান, হঠাৎ করে আমার পুলিশি প্রহরা বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি বুঝতে পারিনি। বৃহস্পতিবার এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন পুলিশ প্রহরা ছাড়াই স্কুলে এসেছি। নিরাপত্তা নিয়ে আপাতত কোনো সমস্যা দেখছি না। কয়েকদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো। এসপি সাহেব আমাকে আশ্বস্ত করেছেন কিছু হবে না।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারুক আহমেদ জানান, প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের নিরাপত্তার ব্যাপারে উচ্চ আদালতের কোনো নির্দেশনা ছিল না। তারপরও আমরা তার প্রয়োজনে তাকে পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন তেমন কোনো সমস্যা দেখছি না। তাই নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।  

গত বছরের ১৩ মে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অপবাদ দিয়ে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্যামল কান্তি ভক্তকে জনসম্মুখে লাঞ্ছিত করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। শারীরিক লাঞ্ছনার পর নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরদিন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। লাঞ্ছিত শিক্ষক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ মে সেই বহিষ্কারাদেশ গ্রহণ করেন।

ঘটনার পর দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের কর্মকাণ্ডের সমালোচনাসহ নিন্দা জানানো হয়। তার পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে সংসদ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারসহ তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

গত বছরের ৯ জুন শ্যামল কান্তিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কড়া নিরাপত্তায় নারায়ণগঞ্জ নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে শ্যামল কান্তির নিরাপত্তায় পুলিশের দুজন কনস্টেবল নিয়োজিত করা হয়।

শাহাদাত হোসেন/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।