শেরপুরে আ.লীগ নেতার উপর হামলা : প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
শেরপুরে আ.লীগ নেতা অধ্যক্ষ গোলাম হাসান সুজনের ওপর হামলার ঘটনায় শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে দলীয় নেতাকর্মী ও আতিউর রহমান কলেজের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার কানাশাখোলা ও তারাকান্দি এলাকায় সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়। এসময় প্রায় দুই ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ও র্যাব অবরোধস্থলে হাজির হয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।
এদিকে, এ হামলার ঘটনায় থানায় কোনো মামলা না হলেও সদর থানা পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে। আটক হলেন, শাহীন মিয়া, ইদু মিয়া, আবু মিয়া, পাপ্পু মিয়া ও রাসেল মিস্ত্রি। আটকরা সবাই শহরের কসবা বারাকপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং বয়স ১৯/২০ বছর করে হবে বলে সদর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শুক্রবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান আতিক জেলা আ.লীগের এক জরুরী সভা আহ্বান করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
শহরের কসবা মোল্লাপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন জেলা আ.লীগের সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান মডেল কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম হাসান সুজন।
হুইপ আতিউর রহমান আতিকের সঙ্গে শহরের চকবাজার জেলা আ.লীগ অফিসে সভা করে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তার ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। দ্রুত তাকে শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তির পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি ময়মনিসংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জেলা পরিষদ নির্বাচনের জের ধরে অধ্যক্ষ সুজনের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে জেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল দাবি করেছেন।
তবে চন্দন পালের এমন বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন আরেক আ.লীগ নেতা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ছানুয়ার হোসেন ছানু।
তিনি বলেছেন, পুলিশ ও প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে লেনদেন নিয়ে সুজনের সঙ্গে কিছু লোকের দ্বন্দ্ব রয়েছে। সুজনের আত্মীয়-স্বজনরা কসবা এলাকায় আলআমিন নামে একজনের দোকান ভাঙচুর করেছে। এসব নিয়েই তার ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে, জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কোনো দ্বন্দ্বের কারণে নয়।
জেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন কবীর রুমানের সমর্থক ছিলেন। রুমান আ.লীগ প্রার্থী চন্দন পালকে পরাজিত করে বিজয়ী হন।
হাকিম বাবুল/এমএএস/এমএস