ফেসবুকে লাইভ

কুষ্টিয়ায় ইউএনওর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০১:৪৩ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়, ত্রাণ বিতরণে অনিয়মসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ফেসবুক লাইভে এসব অভিযোগ তুলে তদন্তপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাত।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে নিশাত দাবি করেন, গত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি নিজ উপজেলা মিরপুরে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সময় ইউএনওর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত হন। পরবর্তীতে এসব অনিয়মের বিষয়টি তৎকালীন জেলা প্রশাসকসহ বর্তমান জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক জেলা প্রশাসক ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কোনো ধরনের চাঁদা আদায় না করার নির্দেশনা দিলেও তা উপেক্ষা করে মিরপুর উপজেলার প্রতিটি সার ডিলারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রমজান মাসের আগে বিভিন্ন ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত শুকনা খাবার নিরপেক্ষভাবে বিতরণ না করে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিশাতের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সিল ও স্বাক্ষর গোপনে নিয়ে ইউএনও নিজেই ঠিকাদারের মতো বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে বিল উত্তোলন করেছেন।

ফেসবুক লাইভে তিনি আরও বলেন, উপজেলার ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা প্রদানেও বৈষম্য করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সিসি ক্যামেরা স্থাপনকেও কেন্দ্র করে নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রতি বছরের মতো ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চের জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য স্বেচ্ছাভিত্তিতে অনুদান নেওয়া হয়। এতে কোনো ধরনের জোর বা বাধ্যবাধকতা নেই।

মিরপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির খন্দকার রেজাউল করিম অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, ইউনিয়নে শুকনা খাবার বিতরণের ক্ষেত্রে উপজেলা জামায়াত নেতদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, পুরো ভিডিওটি এখনো দেখা হয়নি। তবে যে-ই অভিযোগ করুক না কেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হবে।

আল-মামুন সাগর/এনএইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।